শুরুটা ছিল হতাশার। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর স্পেনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল অনেক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দলই বদলে গেল এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে। টানা জয়ে ফাইনালে ওঠার পর শেষ লড়াইয়ে তারা হারিয়ে দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে লা রোজা। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।
নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। বল দখল, পাস, আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই এগিয়ে ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অথচ এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত গোলরক্ষণের কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি স্পেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৫ শতাংশ বলের দখল রাখতে পারে তারা। আরও বিস্ময়কর বিষয়, নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে একবারও লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম।
ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরিতে মাঠ ছাড়ায় রক্ষণেও ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। পেদ্রি, দানি ওলমো, কুকুরেয়া ও ফেরান তোরেসের একাধিক প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন মার্টিনেজ। ইনজুরি সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা আর্জেন্টিনাকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ভাগে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। তবে হতাশ হয়নি স্পেন। ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় বিশ্বকাপের ভাগ্য।
গোল হজমের পরও ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে বারবার আটকে যায় তাদের আক্রমণ। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির, আর ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার টানা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
বিশ্বকাপের শুরুতে সমালোচিত স্পেন শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে পরিপূর্ণ ফুটবল খেলেই বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধার করল। আর ফাইনালে একেবারেই ছন্দহীন আর্জেন্টিনাকে হতাশা নিয়েই বিদায় নিতে হলো ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে।
