রবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:০৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুদের কেড়ে নিচ্ছে হাম: সিলেটে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
জুলাই ১৯, ২০২৬ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, আর প্রায় প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন মৃত্যুর খবর। সর্বশেষ আরও এক ৯ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিভাগে সন্দেহজনক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১০০ জনে। মৃতদের মধ্যে ৯৯ জনই শিশু। এই পরিসংখ্যান শুধু একটি রোগের ভয়াবহতাই নয়, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে বড় এক সতর্কবার্তাও তুলে ধরছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দুলারবাজার ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় তার মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে আরও ৮৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮৫ জন।

হাম সাধারণভাবে একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ হলেও শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতার কারণেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

সিলেটে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই শিশু—যা প্রমাণ করে এই প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরাই।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৪৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার। এরপর রয়েছে সিলেট জেলা ১৮০ জন, হবিগঞ্জ ৫৫ জন ও মৌলভীবাজার ২২ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এলাকা, টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশু, স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং রোগ শনাক্তে বিলম্ব—এসব কারণ সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বিস্তারিত বিশ্লেষণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছেন আরও ৯৬ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ চিকিৎসাসেবা, শয্যা, আইসিইউ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, সর্বশেষ মৃত্যুর পর বিভাগে সন্দেহজনক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে। মৃতদের মধ্যে ৯৯ জন শিশু এবং একজন নার্স রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না। জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা নির্ণয় করাও জরুরি।

সিলেটে হামের এই দীর্ঘায়িত প্রাদুর্ভাব এখন আর কেবল একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি শিশু সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও তৈরি করছে। মৃত্যু যেন আর কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না থাকে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।