শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল জানায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। এতে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতির পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন।
এর আগে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মারধরের ঘটনাটি ঘটে। আহত খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে তাকে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার অভিযোগ করেন, শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার ও পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট করেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তাকে ডেকে কথা বলা হয়। একই রাতে আবারও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করার পর শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে বুকে লাথি ও মাথা-মুখে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক রহমান। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে খাইরুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমান আহত হন এবং তার চশমা ও মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো অভিযোগ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কাউকে মারধরের নির্দেশ দেওয়া বা এ ধরনের ঘটনার প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
