বিশ্বকাপে আরেকটি বড় ধাক্কার মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে মিসরকে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগের রাউন্ডে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয় পাওয়া আর্জেন্টিনা এবারও বিদায়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু শেষ ১১ মিনিটে বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র।
৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এরপর ৮৪ মিনিটে গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান মেসি। আটলান্টার গ্যালারি তখন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে আসে শেষ আঘাত। লাউতারো মার্তিনেজের ডান প্রান্তের ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোলই নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। শেষ আটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড।
তবে হারলেও মিশরের লড়াই ছিল প্রশংসার দাবিদার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই আসরের আগে কোনো ম্যাচ জিততে না পারা দলটি শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছিল। আর এবার তারা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার ক্রস থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে হারিয়ে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি আদায় করেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর অসাধারণ সেভে ফিরিয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসির স্পটকিক।
প্রথমার্ধজুড়ে দুর্দান্ত খেলেন শোবেইর। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ঠেকানোর পর বিরতির ঠিক আগে জুলিয়ান আলভারেজের নিশ্চিত গোলও এক হাতে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে জিকোর একটি গোল বাতিল হলেও কিছুক্ষণ পর হাসেম হাসানের পাস থেকে তিনি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তখন মনে হচ্ছিল, বড় অঘটনের অপেক্ষা মাত্র।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার রূপকথা। রোমেরোর গোল দলকে নতুন বিশ্বাস এনে দেয়, মেসির সমতাসূচক গোল ম্যাচে ফেরায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, আর শেষ পর্যন্ত ফার্নান্দেজের হেডে লেখা হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের জলেই যেন ধরা পড়েছিল স্বস্তি, আনন্দ আর অবিশ্বাস্য এক লড়াই জিতে ওঠার তৃপ্তি।
