বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সিলেট সফরে এসে নগরীর ঐতিহাসিক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তিনি কিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঐতিহাসিক ঘড়িঘর ও চাঁদনীঘাট এলাকা ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাত রঙের চায়ের স্বাদও নেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সিলেটে পৌঁছে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
দুপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়িঘর এবং সুরমা নদীর তীরসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় আলী আমজাদের ঘড়িঘরের পাশে স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি সুরমা নদীর তীরে কিছু সময় কাটান এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রদূত সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন। নগর পরিচালনা, জনসেবা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আগ্রহের সঙ্গে খোঁজখবর নেন। এই সফর পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ
সকালে নগরীর একটি হোটেলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে সিলেটের সংসদ সদস্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
সার্কিট হাউসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
