মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে অনন্য দাস (৭) ও দুর্য্য দাস (৯) নামে দুই শিশু শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সম্পর্কে তারা মামাতো-পিসাতো ভাই।
নিহত অনন্য দাস আমতৈল গ্রামের অমল দাসের ছেলে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর নিহত দুর্য্য দাস রাজনগর উপজেলার নারায়ন দাসের ছেলে ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ জানান, অমল দাস পরিবার নিয়ে কর্মসূত্রে বড়লেখায় থাকেন। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি আমতৈলে আসেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর বোনও ছেলে দুর্য্যকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
বুধবার সকালে অনন্য ও দুর্য্য পরিবারের অলক্ষ্যে বাড়ির পাশের একটি কালভার্টের নিচে বরশি নিয়ে মাছ ধরতে যায়। একপর্যায়ে দুজনই পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়। দুপুরে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘাস কাটতে গিয়ে কালভার্টের পানিতে তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, ফুটফুটে দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের অনুমতিক্রমে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করা হয়েছে।
