১২শ মানুষকে আমন্ত্রণ, প্রায় সবাই এসেছেন
‘রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কেউ বর্জন করেছেন—এমন কথা আমার জানা নেই।’ সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে এ মন্তব্য করেছেন সিসিক প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বুধবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ১২শ মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমন্ত্রিতদের প্রায় সবাই এসেছেন। এর মধ্যে দু-চারজন নানা কারণেই বাদ পড়তে পারেন।’
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিসিকের আয়োজনে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তবে অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না। পরে রাতে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে কাইয়ুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ আনা হয়।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক দলের নন; তিনি রাষ্ট্রের প্রধান। তাঁর সংবর্ধনা অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকে নিয়ে অরাজনৈতিকভাবে সংবর্ধনা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি তাঁর নির্দেশ অনুসারে কাজ করেছি। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দাওয়াত করেছি।’
সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘এই আয়োজনে আমি সভাপতিত্ব করেছি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে, বিএনপির সভাপতি হিসেবে নয়। এতে কে কোন কারণে আসেননি, তা আমার জানা নেই।’
সংবর্ধনা নিয়ে বিএনপির নেতাদের একাংশের বর্জনের পেছনে সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় বিরোধ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তাঁর জানা নেই। তবে এমনটি হওয়ার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা দলীয় কোনো অনুষ্ঠান নয়। এখানে রাজনীতির সম্পৃক্ততা নেই,’ বলেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও দাবি করেন কাইয়ুম চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি আমিসহ সিসিকের সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।’
এদিকে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেন, তখনই মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। আমি তাঁর নির্দেশ অনুসারে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
বর্জনকারী নেতাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনা আয়োজন এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তারা অনুষ্ঠানে যাননি।
