সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির নেতারা। তবে রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের অন্য কর্মসূচিতে তারা অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগরভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। দলটির নেতাদের দাবি, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান বর্জন নয়, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর ‘গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতার’ প্রতিবাদে তারা শুধু সিটি করপোরেশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি বর্জন করেছেন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রাম বয়কট করিনি। রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেছি, দুই মাজারে গিয়েছি এবং সার্কিট হাউসে তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনাও করেছি। শুধু সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সেখানে যাইনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়ে মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। এ ছাড়া নির্ধারিত গাড়ি ব্যবস্থাপনা এবং চলাচল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির সকল প্রোগ্রামে ছিলাম। শুধু সিসিকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিলাম না। সিটির প্রশাসকের কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি, এজন্য যাইনি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেলে নগরভবন প্রাঙ্গণে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি রাহাত আরা বেগম, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
