সিলেটের জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে তাঁর দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বভার দেয়াকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা মর্মেও ১৫ দিনের সময় দিয়ে রুল জারী করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল সুলতানপুর ইউপির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের দায়েরকৃত রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন উচ্চ আদালতের বিচারপতি ফাতেমা নাজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রেজার দ্বৈত বেঞ্চ।
উচ্চ আদালত থেকে এমন আদেশ পেয়ে বুধবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে ও মঙ্গলবার জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ।
অবহিতপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দুটি ফৌজদারী মামলায় আত্মসমর্পণ করে জেল হাজতে গেলে তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিনকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি তাঁর দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেও দায়িত্ব পাননি। পরে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। বিচারপতি ফাতেমা নাজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রেজার দ্বৈত বেঞ্চ একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের আদেশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
জানা যায়, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী দুটি মামলার আসামি হন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিনকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। ১ মাস ৭ দিন কারাবাস করে জামিনে মুক্তি পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তাঁর দায়িত্বভার ফিরে পেতে গত ১৯ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ৬ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। এ দুটি আবেদনের পরও তাঁকে দায়িত্বভার প্রদান না করায় তিনি সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দাখিল করেন (রিট নং ৬৪৯৪)। পরে গত ২৮ এপ্রিল শুনানি শেষে বিচারপতি ফাতেমা নাজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রেজার দ্বৈত বেঞ্চ ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের আবেদন নিস্পত্তির আদেশ প্রদান করেন এবং একই সাথে ৩ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের মামলায় আমি স্ব-ইচ্ছায় কারাবরণ করে জামিনে মুক্তি পেয়ে আদালতের নির্দেশমতো দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও পাচ্ছি না। একই রাজনৈতিক মামলায় অন্য চেয়ারম্যানগণ আসামি হয়ে অনেকে দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু আমাকে রহস্যজনক কারণে দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, উনি জামিন পাওয়ার পরে আদালতের একটা পিটিশন আসছে। তবে উনার সাথের মেম্বাররা উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। যেটা তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
