চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ দুই দিন সুটকেসে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল অবেদিন ও মো. আবুল কালামকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আদালত জাকির হোসেনকে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের অনুমোদনের পর এ দণ্ড কার্যকর হবে। অন্যদিকে, মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় জাকিরের দুই ভাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে ধরা পড়ার আশঙ্কায় মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন নিজ ঘরে লুকিয়ে রাখেন তিনি। এরপর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেন।
ঘটনার পর ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। গ্রেপ্তারের পর জাকির হোসেন পুলিশের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় পুলিশ জাকির হোসেন ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু হয়। প্রায় এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
