লন্ডনে চিকিৎসা নেয়ার ৪ মাস পর দেশে ফিরেছেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুই পুত্রবধূসহ তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সিলেটের কৃতিসন্তান ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী। যিনি গণতন্ত্রের লড়াইয়ে কাজ করেছেন সম্মুখ সারিতে। জিয়া পরিবার তথা বিএনপি’র সঙ্গে তাঁর রয়েছে আত্মার সম্পর্ক।
সোমবার হিথ্রো বিমানবন্দরে মাকে বিদায় জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই পুত্রবধূ ছাড়া আরোও ছিলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন, এপিএস মাসুদুর রহমান ও দুই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম ও রূপা হকও।
এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানও দেশে ফিরেন দীর্ঘ ১৭ বছর পর। সাথে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানও।
প্রথমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া কাতারের যে রয়েল অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে গিয়েছিলেন, সেই অ্যাম্বুলেন্সেই দেশে ফিরবেন। পরে মঙ্গলবার ওই বিমানেই দেশে ফিরেন বেগম জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা সোমবার যুক্তরাজ্য থেকে রওনা দেন এবং বাংলাদেশে এসে পৌঁছান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে। বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে ৮নং গেট দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গুলশানের উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানবন্দর মোড় থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসার পর ২৫ জানুয়ারি তিনি তারেক রহমানের বাসায় লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অর্ধ যুগের বেশি সময় পর লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গত ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেন খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবন্দি অবস্থায় চারটি ঈদ কেটেছে কারাগার ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
