বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৪৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সিলেটের সকাল ডেস্ক :
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দেশ গঠনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। বিশ্বের যেসব দেশ টেকসইভাবে এগিয়েছে, তাদের মৌলিক বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন। এসব খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেছে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত শক্ত করেছে।

তিনি বলেন, গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পর্যায়ে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ দুই খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকারের দুটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পর্যায়ক্রমে এ দুই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রত্যেকটিতে জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন  এটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এ পর্যায়ে পৌঁছানো সহজ নয়। এজন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নবীনবরণ স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি শুধু অবকাঠামো নয়, দক্ষ ও যোগ্য মানুষ। তাই শিক্ষার মান নিয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চাকরির জন্য শিক্ষার্থী তৈরি করবে না; এমন মানুষ তৈরি করতে হবে, যারা গবেষণা করবে, নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজের সমস্যার সমাধান করবে এবং দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

সিলেটের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিলেট ঐতিহ্যগতভাবে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ মাটি থেকে অনেক মেধাবী মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে আত্মসমালোচনার জায়গা থেকে আমাদের দেখতে হবে, সিলেটের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মেধাবী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে কি না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষকতা, একাডেমিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রশ্ন এড়িয়ে না গিয়ে মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোই শেষ কথা নয়, শিক্ষার মান বাড়ানোই মূল বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষার্থী বিনিময় ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, অর্থনীতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা শুধু চাকরি খুঁজবে না; উদ্যোক্তা, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া সিলেট বিভাগের চার জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সফলভাবে সম্পন্ন করা কৃতী শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল বাছিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কাওছার, দৈনিক ‘আগামীর সময়’-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহসভাপতি শাকেরা বখস। এতে সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী এবং সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা জালালাবাদ অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিজ অঞ্চলের শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।