সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগের স্থান হযরত শাহজালাল (রাহ.) মাজারে এবারের ওরসে সকল শিরিক-বিদাআত, অনৈতিক ও অসামাজিক কাজ বন্ধ রাখতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ‘শাহজালাল (রাহ.) তাওহিদি কাফেলা’। মঙ্গলবার দুপুরে এসএমপি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ বৈঠক করেন। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়।
বৈঠকে ‘শাহজালাল (রাহ.) তাওহিদি কাফেলা’র নেতৃবৃন্দ বলেন- হযরত শাহজালাল (রাহ.) এর মিশনই ছিলো- এই অঞ্চল থেকে সকল শিরিক-বিদআত ও পাপাচার দূর করা। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়- ওই ওলির মাজারকেই সকল অনৈতিক-অসামাজিক অপকর্মের কেন্দ্রস্থল বানিয়ে ফেলেছে একটি অসৎ গোষ্ঠী। সিলেটবাসী এসব অপরিবত্রতা বন্ধে একাট্টা ও বদ্ধপরিকর। তাই আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছি- যাতে এবারের ওরসে কোনো ধরনের অসামাজিকতা-অনৈতিকতা না হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসময় বলা হয়- সামাজিক বিশৃঙ্খলা-অস্থিরতা দূর করাই পুলিশের কাজ। আমরা এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এবং এ ব্যাপারে শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৈঠক শেষে ৩ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন ‘শাহজালাল (রাহ.) তাওহিদি কাফেলা’র নেতৃবৃন্দ। এসএমপি কমিশনারের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মু. মাসুদ রানা (পিপিএম-সেবা)।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- এসএমপির উপ-কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) শেখ শরীফুল ইসলাম (সদর ও প্রশাসন), উপ-কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. তারেক আহমেদ (সিসিটিসি- পিওএম), মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং এসএসপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার এএসপি মো. মুহিদুর রহমান,‘শাহজালাল (রাহ.) তাওহিদি কাফেলা’র আহবায়ক মাওলানা মুশতাক আহমদ খান, উপদেষ্টা নুমানী চৌধুরী, যুগ্ম-আহবায়ক দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আসজাদ আহমদ, যুগ্ম-আহবায়ক দারুল হুদা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মুজিবুর রহমান, জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, কাফেলার সদস্যসচিব মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, যুগ্ম-সদস্যসচিব দারুল ফালাহ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফেজ শিব্বির আহমদ, অধ্যক্ষ মাওলানা মনজুরে মাওলা এবং মুফতি মনসুর আহমদ প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ৩টি দাবি হচ্ছে- শাহজালাল (রাহ.) মাজার প্রাঙ্গণে সাজদা, অশ্লীলতা ও গানবাজনা বন্ধ করা; মদ-গাজার আসর না বসানো এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের জিয়ারত ও ইবাদাতের নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
