সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’র কমিটিতে বিতর্কিত সদস্যদের রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাঁধন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রাখায় নতুন কমিটি ঘোষণার পর সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৭ সদস্য বিশিষ্ট বাঁধনের নতুন কমিটিতে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন সিকৃবি ছাত্রলীগের উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এস. এম আলী আশরাফ। এছাড়াও কমিটির সভাপতি জিহাদ হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সাজিন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ প্রত্যাশী ছিলেন।
গত বছরের ১লা সেপ্টেম্বর হওয়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ছাত্র সমাবেশে যোগদানের জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি ভিডিও করতে দেখা যায় বাঁধনের নতুন কমিটির সভাপতি জিহাদ হোসেন ও সহ-সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সাজিনকে। তারা বাঁধনের কমিটিতে পদ পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি এই কমিটি বিলুপ্ত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিয়ে ও রাজনীতিমুক্ত কমিটি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সিকৃবির এগ্রিকালচার কন্সট্রাকশন এন্ড ইনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, বাঁধনকে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জানলেও গত বছর থেকে সিকৃবিতে রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপে কমিটি হতে দেখছি। সিকৃবিতে সংগঠনটি বিতর্কিত হচ্ছে। জানিনা বাঁধনের কেন্দ্রীয় নেতারা এই ব্যাপারে জানে কিনা। শুধু বাঁধন না সিকৃবিতে অরাজনৈতিক সংগঠন প্রাধিকারের কমিটিতেও রাজনৈতিক নেতাদের স্থান হয়েছে। এছাড়া একাধিক সদস্যের ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ ছিল ও অনেকে সিভি জমা দিয়েছেন। এখন যদি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পদ দেয়া হয় তাহলে কিছু বলার নেই। প্রশাসনের ব্যাপারগুলো আরো জোরালোভাবে দেখা উচিত।
ছাত্রলীগের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে বাঁধনের নতুন কমিটির সভাপতি জিহাদ হোসেন বলেন, আমরা আশরাফকে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে বলেছি। আর আমি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত না।
বাঁধনের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এস. এম আলী আশরাফ জানান, ‘এখন ব্যস্ত আছি। পরে আপনাকে কল দিচ্ছি।’ পরে আর ফোন দেন নি।
এবিষয়ে সিকৃবির অতিরিক্ত পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) ড. সামিউল আহসান তালুকদার বলেন, বাঁধন সদস্যরা তাদের নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কমিটি করেছে। ওইখানে আমাদের প্রশাসনের থাকার কোনো সুযোগ নেই। সোমবার তারা কমিটি ঘোষণা করেছে। পরে আমরা জানতে পারলাম যে ছাত্রলীগের কমিটির একজন ঢুকে গেছে। মঙ্গলবার আমাদের ছাত্র পরিচালক মহোদয় আজকে ওদের ডাকছেন। ওরা আসছিল। ওদের ভুলবশত এটা হয়েছে। ওরা এবিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
