টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা পানিতে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৪টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা পানির কারণে জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার হাওর ও নিম্নাঞ্চল এরইমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলাগুলোর বেশ কয়েকটি রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে রাস্তা দিয়ে যান-চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়াতে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়াও ইতিমধ্যে শুরু করেছেন। বন্যার্ত মানুষদের জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৩৫ টি, গোয়াইনঘাটে ৫৬ টি, জৈন্তাপরে ৪৮ টি ও কানাইঘাটে ১৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলাগুলোর হাওরাঞ্চলের বাড়িঘরের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার সারিঘাট-গোয়াইনঘাট, গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক প্লাবিত হওয়াতে রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর বাকি উপজেলাগুলোতেও রাস্তার ধার দিয়ে পানি প্লাবিত হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ শ্রী নিবাস দেবনাথ জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটে ৪ মিলিমিটা বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.১ ও সর্বনিম্ন ছিল ২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। আজ রাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সিলেটের ৪টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্ট, সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্ট, ডাউকি নদীর জাফলং পয়েন্ট ও সারিগোয়াইন নূীর গোয়াইনঘাট পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ১১.৯৮ সে.মি. প্রবাহিত হলেও বুধবার সন্ধ্যায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৩.৯৫ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানের বিপদসীমা ১২.৭৫ সে.মি.। কুশিয়ারা নদীর বিপদসীমা ১৫.৪০ হলেও সন্ধ্যায় ১৬.৬০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সারি নদীর বিপদসীমা ১২.৪৫ সে.মি হলেও ১৩.২৬ সে.মি., ডাউকি নদীর বিপদসীমা ১৩ সে.মি. হলেও সন্ধ্যায় ১৩.৪১ সে.মি. ওপর দিয়ে ও সারি-গোয়াইন নদীর বিপদসীমা ১০.৮২ হলেও ১০.৯৪ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ভারতে বৃষ্টিপাত বাড়ার কারণে বাংলাদেশের নদনদীর পানি বাড়ছে এবং ৪ টি জায়গায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের পানি কমে যাচ্ছে। আশা করা যায় এভাবে পানি নামলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তবে সময় লাগবে পরিস্থিতির উন্নতি হতে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়েনের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় থেকে প্রতিনিয়তই গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে পানি আসতেছে। যার কারণে নদীর পানিও বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বাড়লে পরিস্থিতি অনুকূলের বাইরে চলে যাবে। ইতিমধ্যে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসা শুরু করেছেন। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং মাঠে আছি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মানুষজনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা মাইকিংও করেছি। কারো আশ্রকেন্দ্রে আসতে অসুবিধা হলে আমাদের ভলান্টিয়াররা গিয়ে আনবেন।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, আমাদের এখানে পানি আসে সীমান্ত দিয়ে। ভারতে বৃষ্টি হলে সেটা বাংলাদেশে এসে বন্যার সৃষ্টি হয়। জৈন্তাপুরের অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিজপাট ইউনিয়নের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে মানুষ উঠা শুরু করেছেন। বর্তমানে বৃষ্টি নেই কিন্তু ভারতে বৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে পানি আরো বাড়তে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। আজকের রাত গেলে বুঝা যাবে।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরীন বলেন, কানাইঘাটের বেশকিছু এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ১৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা সবজায়গায় খবর রাখছি।
