শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদিকে, মদিনা মার্কেট এলাকায় দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। সিলেটের আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব এ প্রতিবেদককে বলেন, হামলায় আহতরা হাসপাতালে যেতে পারছে না। এমনকি বেসরকারি হাসপাতালও তাদের ভর্তি নিচ্ছে না। মদিনা মার্কেটে ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। আন্দোলনকারীরা পাল্টা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ (পিপিএম) বলেন- শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। তাদের হামলায় তাদের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত গুরুতর। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে সে বহিরাগত। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। জরুরি সেবার যানবাহন ও অফিস ছাড়া সব বন্ধ রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ কর্মসূচি পালনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। এসময় তারা পুলিশ-বিজিবির সামনে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে শ্লোগান দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সোয়া ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের দখল নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ইট-পাটকেল ও পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি-টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়।
প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। আর পুলিশ বলছে- তাদের অন্তত ৫ জন সদস্য শিক্ষার্থীদের হামলায় আহত হয়েছেন।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এসময় একজনকে আটক করা হয়।
বেলা ১১টা ২০ থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও অবস্থানের আশপাশে প্রচুর পুলিশ রয়েছে। তবে দুপুর ১২ পর্যন্ত কোনো অঘটনা ঘটেনি। তীব্র গরমকে উপেক্ষো করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিশেষ টিম ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি)। এসময় থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এসময় শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় তারা।
দুই সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রথমে অহিংস থাকলেও রবিবার (১৪ জুলাই) রাত থেকে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেট। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ৬ শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বুধবার (১৭) জুলাই দিনভর সিলেট ছিল উত্তাল। এছাড়া ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরেও পুলিশের সঙ্গে সাধারণ ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
