# ৫ উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি
সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ফিলিস্তিনে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্য সরকারের অনুমোদন চেয়েছেন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ১০০ নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থী। রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের কাছে প্রধান উপদেষ্টা সহ ৫ উপদেষ্টা বরাবরে এই স্মারকলিপি দেন তারা। ১০০ নার্সের পক্ষে এই স্মারকলিপি দেন সিলেটের নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজের বিএনএমসির রেজিস্টার্ড মিডওয়াইফ- আয়শা সিদ্দিকা প্রিয়া। প্রধান উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবরে তারা এই স্মারকলিপি দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- আরএম আয়শা সিদ্দিকা প্রিয়া, নার্সিং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ইব্রাহিম নীল, আরএন নার্স লিজা আক্তার, হালিমা খাতুন, নার্সিং শিক্ষার্থী সামিয়া সামি, রিয়া, বুশরা চৌধুরী, নিপা ও আমিনুল ইসলাম, এহসানুল হক তাহের, ইয়াকুব কামাল প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- ফিলিস্তিনে হাজার হাজার নিরীহ মুসলমানকে বোমা মেরে হত্যা করেছে ইসরায়েলীরা। প্রতিনিয়ত একের পর এক মুসলমান নিহত হচ্ছেন। প্রায় দুই বছর ধরে এ হত্যাকান্ড চলছে। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে । কিন্তু তারপরও নির্মম হত্যাকান্ড ফিলিস্তিনে বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘের আইন লঙ্ঘন করে দিনের পর দিন হত্যাযজ্ঞ চলছে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর থেকে ইসরায়েলী বাহিনীর এমন হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। গত ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৩৬টি পৃথক হামলায় নিহতদের সবাই নারী কিংবা শিশু। অধিকাংশ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল শরণার্থী শিবির, যেখানে সুরক্ষার আশায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। আল-মাওয়াসি অঞ্চলের মতো জায়গাগুলোকে তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করলেও, ইসরায়েল সেখানে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে অন্তত ২৩টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবু লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা।
চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে দাবী করে তারা আরও উল্লেখ করেন- এতে আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৮১ জন। অনেক মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব ঘটনা দেখে ১০০ জন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ফিলিস্তিনের গাঁজায় গিয়ে নার্সিং সেবা দিতে ইচ্ছুক। তাই সম্পূর্ণ সরকারীভাবে আমাদেরকে গাজায় গিয়ে আহতদের চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ করে দিতে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্মারকলিপি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার যুগ্ম আহবায়ক ও সিলেট উইমেন্স নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম জানান, গত ৭ এপ্রিল ফিলিস্তিনের গাঁজায় গণহত্যার প্রতিবাদে সিলেটের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে ১০০ নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থী গাঁজায় গিয়ে মানুষের সহযোগিতা করতে চাই। সেদিন থেকে সারাদেশের নার্সরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে আমরা সবার সকল তথ্যাদি সংযুক্ত করে আজ সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা সহ ৫ উপদেষ্টা বরাবরে আজ স্মারকলিপি দিয়েছি সরকারের সহযোগিতা ও অনুমোদন চেয়ে। আমরা আশা রাখি আমাদের সরকার আমাদেরকে ফিলিস্তিনের ভাইবোনদের পাশে থাকতে সহযোগিতা করবেন।
