শনিবার , ২৩ মে ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৩৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কানাইঘাটের দুঃখ ‘গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক’র টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
মে ২৩, ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ওয়ার্ক অর্ডার আগামী মাসেই, প্রশংসায় এমপি আবুল হাসান

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার মানুষের কাছে ‘গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক’ এতদিন ছিল এক চরম দুর্ভোগ আর যন্ত্রণার নাম। কয়েক বছর ধরে কোনো প্রকার সংস্কার না হওয়ায় পিচ উঠে গিয়ে পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছিল বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দ। খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, আর বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির কারণে চলাচলকারী হাজারো মানুষকে পোহাতে হতো ভোগান্তি।

তবে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির অবসান ঘটতে চলেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণে পুনঃনির্মাণের জন্য প্রায় ৫২ কোটি টাকার বিশাল টেন্ডার আহ্বান করেছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সড়কের কানাইঘাট অংশের সাড়ে ৩৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ করা হবে। চুক্তি হওয়ার এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উপজেলাজুড়ে বইছে স্বস্তির হাওয়া। আর এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যপটের নেপথ্য নায়ক হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।

সিলেট নগরের পূর্ব কুশিঘাট থেকে কানাইঘাট পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব প্রায় ৫১ কিলোমিটার। এ সড়ক কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী, দক্ষিণ বাণীগ্রাম ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের জনসাধারণের জন্য জেলা সদরে যোগাযোগের অন্যতম সংযোগ সড়ক, আর উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র পথ এটি। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের কোন ধরনের কাজ না হওয়াতে চলাফেরায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল সড়কটি। বিশেষ করে কানাইঘাট অংশের দুরবস্তার কারণে এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের পড়তে হতো চরম ঝুঁকিতে।

সড়ক সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনও করেছিলেন স্থানীয় জনসাধারণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। সাবেক জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাসের বাণী শোনালেও বাস্তবে সংস্কারের কোন পদক্ষেপ দেখতে পাননি স্থানীয়রা, যে কারণে তাদের মাঝেও দেখা দিয়েছিল ক্ষোভ।

তবে জনগণের এই দুর্ভোগের বিষয়টি শুরু থেকেই আমলে নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। নির্বাচনের আগে তিনি গাছবাড়ি অঞ্চলে জনসংযোগে গিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে শুরুতেই এ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেবেন তিনি। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কানাইঘাটের এই প্রধান সমস্যাটি সমাধানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেন মুফতি আবুল হাসান। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কানাইঘাটের গাজী বুরহান উদ্দিন রোড এবং শেওলা-জকিগঞ্জ রোডের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তাঁর এই আন্তরিক বক্তব্য নজর কাড়ে খোদ স্পিকারের। সংসদ সদস্যের দাবির যৌক্তিকতা অনুধাবন করে মাননীয় স্পিকারও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষ সুপারিশ করেন।

শুধু সংসদেই নয়, মুফতি আবুল হাসান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ফাইল ছাড়াতে তিনি নিজে বার বার যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তাঁর এই নিরলস ও আপ্রাণ প্রচেষ্টার ফলেই গত ১৮ মে এই মেগা প্রকল্পের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়।

এলজিইডির অফিসিয়াল ই-জিপি নোটিশ অনুযায়ী, প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কয়েকটি প্যাকেজে সিলেট (টিলাগড়) গাছবাড়ি-কানাইঘাট উপজেলা সদর বুরহান উদ্দিন সড়কের কানাইঘাট অংশের মোট ৩৪ দশমিক ৫৭০ কিলোমিটার অংশে এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে। আগামী ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত দরপত্রগুলো মূল্যায়ন করা হবে। এরপরই চূড়ান্ত কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) প্রদান করা হবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোদমে সড়ক পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করবে।

এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান জানান, এই সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এলাকার লোকজন এ নিয়ে দীর্ঘদিন দুর্ভোগের মধ্যে ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানসহ সিলেট অঞ্চলের মন্ত্রীদের সহযোগীতায় প্রকল্পটি দ্রুততার সাথে টেন্ডারে নেয়া সম্ভব হয়েছে। সারাদেশের চলমান এ ধরণের প্রকল্পের মধ্যে প্রথম এই সড়কের টেন্ডার হয়েছে বলে জানান তিনি।

চার-পাঁচ প্যাকেজে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চুক্তি হওয়ার এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে বুরহান উদ্দিন রোডের সংস্কারে টেন্ডার আহ্বানের খবরটি কানাইঘাটে পৌঁছামাত্রই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র এখন আনন্দের আমেজ। দীর্ঘদিন পর সড়কের এই বড় বাজেটের উন্নয়ন দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন জনসাধারণ।

বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের কানাইঘাট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমদ বলেন, ‘এর আগে সাবেক এমপিদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছিলাম, কিন্তু কোন কাজই হয়নি। এ কারণে আমরা তো আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এই রাস্তা আর কোনোদিন ঠিক হবে না। আমাদের বর্তমান এমপি সাহেব যেভাবে লেগে থেকে কাজের অনুমোদন করিয়েছেন, তার জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

স্থানীয়রা বলছেন, ‘আমরা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কাজ দেখিনি। কিন্তু মুফতি আবুল হাসান এমপি সাহেব যেভাবে লেগে থেকে ৫২ কোটি টাকার এই বিশাল কাজ পাস করিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রাস্তাটির কাজ শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান ঘটবে। এ সড়কের পাশাপাশি কানাইঘাটের বিদ্যমান আরও বিভিন্ন সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানে এমপি সাহেব কাজ করবেন বলেও আশা রাখেন তারা।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন হওয়াতে আমি খুশি। এই সড়কটি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়ক নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। সকলের সহযোগিতায় এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কানাইঘাট-জকিগঞ্জের উন্নয়ন যাত্রাকে আমরা আরও বেগবান করতে পারব। এলাকার উন্নয়নে এবং জনগণের পাশে থাকতে আমি সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তথ্যসূত্র: সিলেটের ডাক

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।