মঙ্গলবার , ২ জুলাই ২০২৪, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটে ৩ টি নদীর ৬ টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে

ডেস্ক রিপোর্ট
জুলাই ২, ২০২৪ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সিলেটে নদ-নদীর পানি তৃতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতির দেখা দিয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৪ টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবেছে নগরের বেশ কয়েকটি এলাকা। এদিকে সিলেটের ৩ টি নদীর ৬ টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এর আগেরদিন ৩১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে এই পানি বাংলাদেশে বিভিন্ন নদনদীর মাধ্যমে প্রবেশ করে সিলেটে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও আগামী ৩দিনে ৩০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) ২৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সিলেটের কুশিয়ারা নদীর ৪ টি পয়েন্ট, সুরমা নদীর ১ টি পয়েন্ট ও সারি-গোয়াইন নদীর ১ টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে ৭৭ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ও সারি-গোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আর সময়ের সাথে বাড়ছে সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টেও পানি৷ বিপদসীমা থেকে মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সিলেট পয়েন্টে পানি। এর আগে সোমবার সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে তৃতীয় ধাপে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে করে জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ,জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ও তলিয়ে গেছে। কানাইঘাট পৌর শহর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এদিকে পানিতে আবারো নগরের বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে গেছে। সরেজমিন নগরের তালতলা, উপশহরে বেশ কয়েকটি ব্লক, যতরপুর ও মাছিমপুর এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপশহর সি ব্লকের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী এরশাদ আলী জানান, রাতে আমার ঘরে পানি ঢুকে। এখনো ঘরে হাঁটু সমান পানি রয়েছে। বৃষ্টি দিলেই আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এখন পানি কিছুটা কমলেও বাসা থেকে নামে নি। আমরা যারা নিচতলায় থাকি, তাদেরকে সবসময়ই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সিলেট ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশে সিলেটের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পূর্বের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রায় ২৪৫ বর্গ কি.মি. এলাকা এবং ১৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১৫০০ হেক্টর কৃষি জমি নিমজ্জিত। বন্যায় উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৭৫০ টি পরিবারের ৯৮ হাজার ৬০০ জন মানুষ পানিবন্দি আছেন। ৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮১জন মানুষ ও ২৯ টি গরু আশ্রয় নিয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।