সিলেটে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে আল্লামা নুর উদ্দিন সিটি জামেয়া আশরাফিয়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। এর আগে এ ঘটনায় মঙ্গলবার ১০ বছরের শিশুকে মারধরের ঘটনায় নগরের মোগলাবাজার থানায় অভিযোগ করেন ওই শিশুর মা।
তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক শামসুল ইসলাম শরীফ। আর নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ বছর বয়সী হাবিবুর রহমান নগরের ৪১নং ওয়ার্ডের সারপিং এলাকার তাজ উদ্দিন ও কুলসুমা বেগমের একমাত্র ছেলে।
অভিযোগে ওই শিশুর মা উল্লেখ করেন, আল্লামা নুর উদ্দিন সিটি জামেয়া আশরাফিয়া মহিলা মাদ্রাসায় তার ছেলেকে ভর্তি করেন। বাড়ি থেকে মাদ্রাসার দুরত্ব বেশি হওয়ায় তাকে ২য় শ্রেণিতে আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি রাখা হয়। গত সোমবার বিকাল ৪টার সময় হাবিবুর রহমান বাড়িতে আসার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক শামসুল ইসলাম শরীফের (শরীফ উদ্দিন) কাছে ছুটি চায়। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষক তাঁকে ছুটি দেননি৷ সোমবার দিবাগত রাতে মাদ্রাসা থেকে শিশু হাবিবুর রহমান অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি না পেয়ে পালিয়ে আসার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক শামসুল ইসলাম শরীফ খুবই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ও শিশু হাবিবুর রহমানের উপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করেন এবং রাতের খাবারও তাকে খেতে দেননি। মঙ্গলবার সকালেও শিশু হাবিবুর রহমানকে আরেক দফা শারীরিক নির্যাতন করেন শিক্ষক শামসুল ইসলাম শরীফ। মঙ্গলবার সকাল ৯টার সময় শিশুটির মা কুলসুমা বেগমকে মোবাইল ফোন কল দিযে তাকে নেওয়ার জন্য বলেন৷ মা কুলসুমা বেগম তার শিশুকে বাড়িতে এনে শরীরের কাপড় খুলে আঁতকে উঠেন। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে প্রথমে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা করেন ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্রহাবিবুর রহমানের মা কুলসুমা বেগম মঙ্গলবার মোগলাবাজার থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। মোগলাবাজার থানা পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক শামসুল ইসলাম শরীফকে আল্লামা নুর উদ্দিন সিটি জামেয়া আশরাফিয়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করে। বুধবার সকালে শিশুটির মা মোগলাবাজার থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আসামী শামসুল ইসলাম শরীফকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশু হাবিবুর রহমানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্র হাবিবুর রহমানের মা কুলসুমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভের জন্য পাঠিয়েছিলাম। বাড়িতে আসার জন্য ছুটি চেয়ে আসতে চাওয়া অপরাধ ছিলো। আমার ছেলেকে অমানবিক শারিরীক নির্যাতন করে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক শামসুল ইসলাম শরীফ। আমি এ নিষ্ঠুর নির্যাতনের জন্য শামসুল ইসলাম শরীফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ব্যাপারে ৪২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় শিশুদের শিক্ষা গ্রহনের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে শিশুকে অমানবিক নির্যাতন আইনের চোখে একটি গুরুতর অপরাধ। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শিশুটির পরিবার যেহেতু আইনের আশ্রয় নিয়েছে সেখানেই ন্যায় বিচার পাবে।
এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানার ওসি তদন্ত হারুনুর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিশুটির মা অভিযোগ করার পরে এর সত্যতা পেয়ে আমরা অভিযানে নেমে বুধবার ভোরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছি। তিনি এব্যাপারে মারধরের কথাও শিকার করেছেন। বুধবার মামলার এজাহার গ্রহণ করে আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
