বৃহস্পতিবার , ২৭ মার্চ ২০২৫, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটে ভীড় বাড়ছে ঈদ শপিংয়ে

স্টাফ রিপোর্টার
মার্চ ২৭, ২০২৫ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে রমজান এলেই শুরু হয়ে যায় ঈদের বাজার। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ফুটপাত-মার্কেট কোথাও যেন দাঁড়াবার ঠাঁই নেই। রাতদিন সমানতালে চলছে কেনাকাটা। ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম নগরীর বিপণী বিতানগুলো। ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়াতেও। নতুন পোশাক ফিটিং ও তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন শেষ সময় পর্যন্ত ভালো ব্যবসা হবে এই ঈদে ।

সরেজমিন দেখা যায়, জিন্দাবাজার এলাকার সিটি সেন্টার, ব্লুওয়াটার শপিং সিটি, কাজী ম্যানশন, আল- হামরা শপিং সিটি, শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট প্লাজা, আহমদ ম্যানশন, মিতালী ম্যানশন এবং বন্দরবাজার এলাকার হাসান মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের ব্যাপক ভীড়। একইভাবে নগরের নয়াসড়কের অভিজাত বিপণী বিতান আড়ং, মাহা, চন্দ্রবিন্দু, মহাজনপট্টি এলাকার পোশাকের পাইকারি বাজারও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। তবে অন্যবছরের মতো পোশাকের দাম ঊর্ধ্বমুখি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা রয়েছেন অনেকটা চাপে। অন্যদিকে, এবারের ঈদ বাজারে শাড়ির বিক্রি কম হলেও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবাসীদের কম উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাজারের চিত্র কিছুটা বদলেছে। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক দুর্নীতিবাজ দেশ ছেড়েছে, আর প্রবাসীদের আগমনও কম থাকায় ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে, বর্ণিল ও বাহারি আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে নগরের বিপণীবিতানগুলো। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতারা বিপণীবিতানগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। ইফতারের পর ভিড় বাড়তে থাকে। রাত যত বাড়ে, ক্রেতাদের উপস্থিতিও তত বাড়ে। প্রতিদিন রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিপণীবিতানগুলোতে কেনাকাটা চলছে। ক্রেতারা জানান, এবারও মেয়েদের কাছে থ্রিপিস ও লেহেঙ্গা এবং নারীদের কাছে শাড়ির চাহিদাই শীর্ষে। পুরুষ কিংবা তরুণদের মধ্যে পাঞ্জাবি- পায়জামা, ফতুয়া ও শার্ট, টি-শার্ট, জিনস প্যান্টের চাহিদা রয়েছে। তার বাইরে জুতা ও কসমেটিকস কিনতেও ভিড় জমাচ্ছেন তারা।

বন্দর বাজারের মধুবন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা শাহরিয়ার হাসান জানান, ঈদের বাজারে ঢুকাই যাচ্ছে না মানুষের ভীড়ের কারণে। রাতে মানুষ কম হবে মনে করে এসে দেখি হাঁটাই যাচ্ছে না। এবার বাজারে কাপড়ের দামের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। যে যত মনে হয় চাচ্ছে। একই পণ্য একেক মার্কেটে একেক দাম দেখা যায়।

অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষেরা ছুটছেন হাসান মার্কেট ও হকার মার্কেটসহ ফুটপাতে। সেখানে ভীড় জমালেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদকে সামনে রেখে বরাবরের মতোই নতুন নতুন কালেকশন এনেছি আমরা। এবছর মানুষের আনাগোনা অন্যবারের চেয়ে কম। মানুষজনও ততটা আসছেন না আবার তেমন বিক্রিও হচ্ছে না অন্যবারের মতো। তবে আরও ৩/৪দিন রয়েছে। আশা করছি তখন ক্রেতা উপস্থিতি বাড়বে।

হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ আজিজুল করিম বলেন, আমরা লাভ করছি না। দোকান খরচ, কর্মচারীর বেতন দিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে। মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। যার প্রভাব ঈদের মার্কেটে পড়ে।

ঈদকে সামনে রেখে দর্জিপাড়াও সরগরম। মেশিনে বসে সমান তালে কাজ করছেন কারিগররা। কখনো প্যান্ট-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ আবার কখনো পাঞ্জাবি তৈরিতে মেশিনে অবিরত চলছে খরখর শব্দ। কারিগররা বলেন, পছন্দের এসব পোশাক চাঁদ রাতের আগেই ডেলিভারির স্লিপ দেখে বুঝিয়ে দিতে হবে, তবেই স্বস্তি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।