শুক্রবার , ১১ আগস্ট ২০২৩, ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৫৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির ডিমের দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
আগস্ট ১১, ২০২৩ ৫:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সপ্তাহ আগে মুরগির একটি ডিমের দাম ছিল ১০ টাকা ৫০ পয়সা৷ এখন তা ১৫ টাকা৷ দাম বাড়ার কেনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ব্যবসায়ীদের কাছে নেই৷ তারপরও দাম বাড়ছে৷ ১৫ দিন আগের দামের সঙ্গে তুলনা করলে প্রতিদিন সারাদেশের ক্রেতাদের কাছ থেকে সব মিলিয়ে বাড়তি নেওয়া হচ্ছে ১৭ থেকে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা৷

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার জানান, দেশে প্রতিদিন সবধরনের ডিমের মোট চাহিদা চার কোটি ৫০ লাখ পিস৷ আর উৎপাদন আছে পাঁচ কোটির মতো৷ তিনি বলেন, ‘দেশে ডিমের উৎপাদন হঠাৎ করে কমে যায়নি৷ তবে পোল্ট্রি ফিডের দাম বেড়েছে৷ তারপরও খুচরা পর্যায়ে একটি ডিম এখন কোনোভাবেই ১৩ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়৷ আসলে ডিমের বাজার খামারিদের নিয়ন্ত্রণে নেই৷ এটা নিয়ন্ত্রণ করে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান৷ তারাই ঠিক করে দেয় ডিমের দাম৷’

তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকজন ডিমের দাম ঠিক করে দেয়৷ আর সেই দামেই সারাদেশে ডিম বিক্রি হয়৷ এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই৷ তারা তাদের নির্দিষ্ট এজেন্টদের মাধ্যমে সকাল ১০টার মধ্যে মোবাইল ফোনের এসএমসএস, ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সারাদেশে ডিমের দাম জানিয়ে দেয়৷ সেই দামেই বিক্রি হয়৷ এর সঙ্গে উৎপাদন বা চাহিদার তেমন সম্পর্ক থাকে না৷

কনজ্যুমারস অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘গত বছর একইভাবে ডিমের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছিল৷ তারপরও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দামে কিছুটা পার্থক্য ছিল৷ কিন্তু এবার এমনভাবে সিন্ডিকেট করা হয়েছে যে গ্রাম পর্যন্ত খুচরা দাম একই৷

গত বছরের আগস্টে একইভাবে ডিমের বাজারে কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়৷ তখন ভোক্তা অধিদফতর অভিযান চালিয়ে ও তদন্ত করে কাজী ফার্মসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিমের বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর প্রমাণ পায়৷ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও হয়৷ ওই পর্যন্তই৷ এসএম নাজের হোসেন বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও সেই মামলায় কোনো ফল হয়নি৷ তাদের শাস্তির আওতায় আনা যায়নি৷ তাই তারা মজা পেয়ে গেছে৷ আবারো সিন্ডিকেট করে মুনাফা লুটছে৷’

বাংলাদেশে এখন পোল্ট্রি খামারি আছে ৬০ হাজার৷ তাদের মধ্যে ২০ হাজার খামারি ডিম উৎপাদন করেন ৷ আর ৪০ হাজার খামারি মুরগি উৎপাদন করেন৷ এই ৬০ হাজার খামারের মধ্যে ১৯ হাজার খামারিকে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর আওতায় নিয়ে গেছে কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান৷ এটা দাদন ব্যবসার মতো৷ তাদের আগাম টাকা দিয়ে ডিম ও মুরগির দাম বেঁধে দেওয়া হয়৷ সারা বছর সেই একই দামে ডিম ও মুরগি কেনে কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান৷ দেশে মোট খামারের তিন ভাগের একভাগ তারা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে৷ বাকিরা বিচ্ছিন্ন৷ তাই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ তাদের আবার নিজস্ব ফার্মও আছে৷-ডয়চে ভেলে

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।