শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩৫

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপি কর্মী মিনহাজের সাজা মওকুফে পিতার আবেদন, রাজনীতির পটপরিবর্তনে নতুন আলোচনা

ডেস্ক রিপোর্ট
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের সকাল ডেস্ক : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুণ নেতা মিনহাজ জান্নাতকে ঘিরে করা একটি দয়া আবেদন। মিনহাজ জান্নাতের পিতা মো. আয়াজুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে দয়া প্রদর্শনের আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, ছেলের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও দণ্ডাদেশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে “সাজানো” এবং “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”; দলের পরিচয় ও বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকার কারণেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবেদনপত্রে মিনহাজ জান্নাতকে বিএনপির রাজনীতিতে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয়, দৃশ্যমান এবং সংগঠনিক কাজে যুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পিতার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারিকভাবেও তারা জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতির সমর্থক; স্থানীয় সভা-সমাবেশ, প্রচার কার্যক্রম, জনসংযোগ এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে মিনহাজ জান্নাত এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন। আবেদনে বলা হয়, বিরোধী রাজনীতির কারণে তিনি একাধিকবার শত্রুতার মুখে পড়েন এবং নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে যাওয়ায় পরে দেশের বাইরে চলে যান; বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরতে চান, কিন্তু দণ্ডাদেশ বহাল থাকায় ফিরলে গ্রেপ্তার ও দণ্ড কার্যকরের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই দয়া আবেদনকে ঘিরে আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে আছে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী পর্যায় পার হয়ে ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সে নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পায় বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে উঠে আসে। সাম্প্রতিক এক রয়টার্স প্রতিবেদনে দেশটির বর্তমান সরকারপ্রধান হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপিসংশ্লিষ্ট একাংশের যুক্তি হলো, অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রশাসনিক প্রভাবের সময় যে ধরনের মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে বলে তারা দাবি করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে মানবিক ও ন্যায়সংগত বিবেচনা নতুন করে সামনে আসছে। মিনহাজ জান্নাতের পিতার দয়া আবেদনে সে রকমই একটি বয়ান তুলে ধরা হয়। আবেদনে বলা হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো তার দেশের বাইরে থাকার সময়ে অগ্রসর হয়েছে; ফলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কার্যকরভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সীমিত ছিল। আবেদনে আরও বলা হয়, তিনি অপরাধে জড়িত নন এবং “রাজনৈতিকভাবে টার্গেট” হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির দয়া প্রদানের ক্ষমতা সংবিধানসিদ্ধ হলেও বাস্তবে এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত এবং নথিপত্র পর্যালোচনার মতো ধাপ থাকে। ফলে একটি আবেদনের পর দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করে প্রক্রিয়াগত অগ্রগতির ওপর। তবে মিনহাজ জান্নাতের পরিবার বলছে, তারা মানবিক ও ন্যায়বোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রপতির সদয় বিবেচনা প্রত্যাশা করছেন এবং সিদ্ধান্ত হলে মিনহাজ জান্নাত দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।