সিলেটে প্রায় ১১ লাখ টাকার ভারতীয় কাপড় সহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (র.) থানার পীরেরবাজার এলাকা থেকে এগুলো আটক করে। এসময় চোরাচালানী মালামাল বহনকাজে জড়িত থাকায় ১৫ লাখ টাকা মূলোর একটি মিনি বাস আটক করা হয়। এ ঘটনায় ৪ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- সিলেটের জৈন্তাপুরের আসামপাড়ার মৃত সরন আলীর ছেলে মো. সাজ্জাদুর রহমান (২৫) ও নিজপাটের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল মান্নান (২৭)। আর পলাতক অভিযুক্তরা হলেন- জৈন্তাপুরের লক্ষ্মীপুরের জলিলের ছেলে স্বপন (২৮) ও গোয়াইনঘাটের হাজীপুরের মানিক (২৬)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরান থানা এলাকার পীরেরবাজারে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করে একটি মিনি বাস থামায়। তখন মিনি বাসের ড্রাইভার ও তার সঙ্গীয় ১ জনকে মিনি বাসের ভিতরে কি আছে জানতে চাইলে বাসের ভিতর থান কাপড় আছে বলে জানান তারা। এসময় তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় মিনি বাসের ভিতরে তল্লাশী করে পুলিশ। তখন বাসটি তল্লাশি করে সেখানে থাকা ২ হাজার ৭৪৪.৭৪ মিটার ভারতীয় কাপড় আটক করে জব্দ করা হয়। যেগুলো ৯ টি মাঝারী প্লাস্টিকের সাদা বস্তার ভিতরে ভারতীয় মখমল জাতীয় খয়েরী রংয়ের ১১ টি থানে ৪২০ মিটার এবং লাল রংয়ের ১৩ টি থানে ৫৩৪.০৫ মিটার ভারতীয় কাপড়, ৮ টি বড় প্লাস্টিকের সাদা বস্তার ভিতরে ভারতীয় মখমল জাতীয় খয়েরী রংয়ের ১৬ টি থানে ৬৫৫.২০ মিটার এবং লাল রংয়ের ২৮ টি থানে ১ হাজার ১৩৫.৪৯ মিটার ভারতীয় কাপড় ছিল। যেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৬ টাকা। এসময় এসব চোরাচালানী মালামাল বহন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ওই মিনি বাসটি আটক করা হয়।
আটককৃত বাস গাড়ীর চালক আব্দুল মান্নানের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, জব্দকৃত মালামালের মালিক মো. সাজ্জাদুর রহমান ও পলাতক মানিক এবং সহযোগী স্বপন। তারা সবাই পরস্পর মিলে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কৌশলে সরকারী শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় মখমল জাতীয় থান কাপড় সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখে সিলেট শহরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এএসআই(নিঃ) মো. সোহেল আহমদ বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে শাহপরাণ (রঃ) থানা বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা করে। আটককৃতদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে আর বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
