সিলেটের গোয়াইনঘাটে নলজুরি খাসিয়া হাওর এলাকার সীমান্তে যৌথ জরিপকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার নলজুরির খাসি হাওর এলাকায় ১২৭৮-১২৭৯ পিলারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ জরিপ বিভাগ, ঢাকা ও সিলেটের ম্যাজিস্ট্রেট, সার্ভেয়ার এবং বিজিবি সদস্যরা গোয়াইনঘাটের নলজুরি খাসিয়া হাওর ১২৭৮-১২৭৯ পিলারের সীমান্তবর্তী খেলার মাঠে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জরিপ কাজে যান। নির্ধারিত সময়ে দুই দেশের যৌথ সার্ভে দল সীমান্ত চিহ্নিতকরণে কাজ শুরু করেন।
সার্ভে কাজে সহযোগিতা করে বিজিবি ও বিএসএফ। তবে সার্ভে চলাকালে বিএসএফের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খাসিয়া হাওর এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানান।
পরে খবর পেয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা ভিড় করেন। একপর্যায়ে জনতা উত্তেজিত হয়ে জরিপ করতে বিএসএফকে বাধা দেয়। বিজিবিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিএসএফকে বাধা প্রদান করে। বিজিবি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে। পরে সাধারণ জনতা ও বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ পিছু হটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা। এটি দখলের পাঁয়তারা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। যতটা জানতে পেরেছি সীমান্তে যৌথ সমীক্ষা চলছিল। তবে কে বা কারা সমীক্ষা চালিয়েছে তা আমার জানা নেই। এই সমীক্ষার বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের টহল কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
