সিলেট বিভাগের চার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। সোমবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ডসহ গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকার মাঠের আধপাকা ও পাকাধানের জমি পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা। আবার বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে ‘ভারি থেকে অতিভারি’ বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ কারণে দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সিলেটসহ দেশের চার বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে বাকি বিভাগগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে এবং সারা দেশের তাপমাত্রা কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এর কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরো জানান, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কক্সবাজারে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ময়মনসিংহে ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় দক্ষিণ/দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে যা অস্থায়ীভাবে পশ্চিম/উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইছে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ।
