বৃহস্পতিবার , ৪ জুন ২০২৬, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বনফুলকে জরিমানা: ‘আপা’ ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে—ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
জুন ৪, ২০২৬ ৬:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় জরিমানা করা হয়েছে—এমন প্রচারকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বনফুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল।

ইউএনও জানান, কিছুদিন আগে তিনি ক্রেতা সেজে বনফুলের ওই শাখায় মিষ্টি কিনতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অনেক আগের বাসি মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছে। মিষ্টিগুলোর মেয়াদ বা কতদিন আগের তা জানতে চাইলে কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। পরে চালানপত্র দেখতে চাইলে প্রথমে তা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করা হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুরো টিম উপস্থিত হওয়ার পর চালান দেখানো হয়।

তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে একজন কর্মচারী স্বীকার করেন যে নতুন মিষ্টির সঙ্গে পুরনো মিষ্টি মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এরপর আমি ম্যানেজারকে ডাকার কথা বললে তিনি পালিয়ে যান। পরে তাকে খুঁজে আনা হলে তিনি আমাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে ক্ষমা চান। কিন্তু আমি তখন স্পষ্টভাবে বলেছি, পালিয়ে যাওয়ার কারণে কোনো জেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে কোম্পানিকে যে জরিমানা করা হয়েছে, সেটি পরিশোধ করতে হবে।”

মুনমুন নাহার আশা আরও বলেন, “আমাকে যে কেউ আপা, খালা বা অন্য কোনো সামাজিক সম্বোধনে ডাকতে পারেন। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত একজন কর্মচারী। কাউকে ‘আপা’ ডাকায় জরিমানা করার কোনো আইন নেই, এমন কোনো বিধানও নেই। অথচ কিছু গণমাধ্যমে বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন ‘আপা’ বলার কারণে জরিমানা করা হয়েছে। এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জরিমানা কোনো ব্যক্তিকে নয়, প্রতিষ্ঠানকে করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেছেন এবং ম্যানেজার জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন। পরে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়াও ইউএনওর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি ‘আপা’ ডাকাকে কেন্দ্র করে নয়। পণ্যের মান সংক্রান্ত বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে এবং সেই কারণেই জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।”

উল্লেখ্য, বুধবার (৩ জুন) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর বিভিন্ন মাধ্যমে ‘ইউএনওকে আপা ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে পরদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয় পক্ষই দাবি করেছে, জরিমানার কারণ ছিল বাসি মিষ্টি বিক্রি, কোনো সম্বোধন নয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।