বোরকা পরিহিত অবস্থায় ক্রেতা সেজে ডুকে পড়তেন দোকানে। তারপর কৌশলে দোকানদারকে ব্যস্ত রাখতে তারা। আর সেই সুযোগে তাদের সঙ্গী পুরুষ সদস্যরা দোকান থেকে হাতিয়ে নিতেন নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান পণ্য। এমনই এক চক্রের তিন নারীসহ সাত সদস্যকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।
শনিবার (০৯ মে) রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোঃ মনজুরুল আলম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- আকাশ ওরফে আপন(৩০),ফকির আলী (৩১), সাদিকা বেগম (২১), ফাইজা বেগম (২৩), মোঃ নাহিদ সিকদার (২৪), রোকেয়া বেগম (৫০) ও শুভরাজ (২২)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ চক্রের সদস্যরা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকায় শপিংমল, সুপার শপ, বিপণিবিতান ও দোকানপাটে বোরকা পরে ক্রেতা সেজে প্রবেশ করে কৌশলে চুরি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সিলেট নগরের চাষনীপীর সড়কের সাফওয়ান স্টোর এবং ২৯ এপ্রিল মজুমদারী এলাকায় ইরাম জেনারেল স্টোরে চুরি করে তারা।
পুলিশের তথ্য অনুসারে, ২৮ জানুয়ারি বিকেল চারটার দিকে চাষনীপীর মাজার সড়কের সাফওয়ান স্টোরে ওই চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করে। এসময় মহিলা সদস্যরা বোরকা পরে ক্রেতা সেজে দোকানের ভেতরে অবস্থান নেয় এবং পুরুষ সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও পছন্দ করার ভান করে দোকানীকে ব্যস্ত রাখে। একপর্যায়ে তারা অত্যন্ত কৌশলে ক্যাশ বাক্স হতে নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং এমবি কার্ড ও মিনিট কার্ড বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
একইভাবে একই সংঘবদ্ধ চক্র গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মজুমদারী এলাকার ইরাম জেনারেল স্টোরে প্রবেশ করে সেখান থেকেও একই কৌশলে নগদ ৮৭ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।
উক্ত দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিমানবন্দর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন ভোক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। এরপরই দুই মামলার মূলে তদন্তে নামে পুলিশ। পরবর্তীতে শনিবার এ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদেরকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
