মঙ্গলবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জগন্নাথপুরে হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুর মামলায় বিএনপি কর্মী মিনহাজে ৭ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা

ডেস্ক রিপোর্ট
জানুয়ারি ২৮, ২০২৫ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার একটি হত্যা চেষ্টা, গুরুতর জখম ও ভাঙচুরের মামলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কর্মী মিনহাজ জান্নাত (২৪) কে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার দিন ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ দণ্ডাদেশ কার্যকরের নির্দেশও দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজা ভোগের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ড কার্যকরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২০ মার্চ সকালে জগন্নাথপুর বাজার এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারের টিএনটি সড়কসংলগ্ন একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এজাহারের বিবরণে বলা হয়, ঘটনার সময় কয়েকজন ব্যক্তি আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ সেখানে উপস্থিত হন এবং ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে দোকানে ভাঙচুর চালান। অভিযোগে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। এজাহারে যাকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মিনহাজ জান্নাত। তাঁর ঠিকানা হিসেবে কামারখাল, মুহাম্মদগঞ্জ বাজার এলাকা এবং জগন্নাথপুর থানা, সুনামগঞ্জ জেলা উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও কয়েকজনের নামও থাকে।

এজাহারকারীর বর্ণনায়, হামলার সময় দোকানের ভেতরে থাকা নগদ অর্থ ও মালামালের ক্ষতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দোকানের কর্মচারী ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মামলার বর্ণনায় নগদ অর্থ ক্ষতির পরিমাণ তিন লাখ টাকা এবং সম্পদের ক্ষতি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ আছে। একই সঙ্গে দোকানের এক কর্মচারী আহত হন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির লোকজনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ তদন্ত শেষে মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার ধারাগুলোতে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা যুক্ত ছিল, যার মধ্যে আছে বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত, গুরুতর জখম, ক্ষতিসাধন, হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এবং যৌথ অপরাধের ধারা। আদালত সূত্র জানায়, বিচার শেষে আসামি মিনহাজ জান্নাতকে উল্লিখিত ধারাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ কার্যকরে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ঘটনায় অভিযোগকারী হিসেবে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন বলে জানা গেছে। মামলার নথিতে তাঁর পরিচয় জগন্নাথপুর পৌর এলাকার আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট এক নেতার ভূমিকায় উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা থাকলেও আদালতের রায়ের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনজীবীরা বলছেন, হত্যা চেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগে দণ্ডাদেশ হলে সাজা কার্যকর করা এবং দণ্ডিত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয়। বিশেষ করে দণ্ড কার্যকরে আদালত থেকে পরোয়ানা জারি হলে সেটি কার্যকর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর পড়ে।

এদিকে আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, দণ্ডাদেশ ঘোষণার পর দণ্ড কার্যকরের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির নিশ্চিত করতে পরোয়ানা জারির বিষয়টিও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত মিনহাজ জান্নাতের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে কি না বা পরবর্তী কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি ঘিরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

 

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।