বইমেলাকে বাঙালির প্রাণের মেলা উল্লেখ করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও জাতিসত্তা কবি নুরুল হুদা বলেছেন,বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়। এ মেলা বাঙালি জাতিসত্তা দাঁড় করাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শুক্রবার সিলেটে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আয়োজিত সপ্তদশ বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বই অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে উল্লেখ করে কবি নূরুল হদা বলেন, বই সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে মানুষকে বিশুদ্ধ করে তোলে। মানুষ জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণের জন্য বইমেলায় ছুটে আসে। বই পড়ায় মানুষকে আগ্রহী করে তোলাকেই বইমেলার আসল উদ্দেশ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বইমেলা উৎসব কমিটির সদস্য সচিব প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেমুসাসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলা একাডেমির ফোকলরবিদ, পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বইমেলা উৎসব কমিটির আহবায়ক সাইফুল করিম চৌধুরী হায়াত ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ১৬ দিনব্যাপী বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীশিল্পী সুষমা দাস। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমরাই একমাত্র জাতি নিজের মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত দিয়েছি। পৃথিবীর আর কোনো জাতি নিজের মায়ের ভাষার জন্য রক্ত দেয়নি।’
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকজন ছাড়াও নবীন ও প্রবীন লেখকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।
এবারের বইমেলাটি সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি দেওয়ান ফরিদ গাজীর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। সিলেট নগরের দরগাহ গেইটস্থ সংসদ চত্বরে আয়োজিত বইমেলা প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
