সিলেট নগরীর লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানের ২০০ চা শ্রমিকের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। চা শ্রমিকদের শীতের কষ্ট লাঘব এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মর্তুজা সেলিম। এসময় তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার দিতে শুধু ব্যর্থই হয় নি, বরঞ্চ নাগরিকদের সাথে চেতনার নামে তামাশায় মত্ত ছিল। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব নাগরিকের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে চা শ্রমিকদের সাথে ভালবাসার বিনিময়। যা আমাদের জাতি ধর্ম, বর্ণ, সকল শ্রেনি-পেশার নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।তিনি আরো বলেন ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি চায় মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করতে এবং উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ মুক্ত একটি সমাজ গড়ে তুলতে। এসব উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত বা সংগঠনের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটি সিলেট জেলার সংগঠক এবং সিটিজেন রাইটস এন্ড জাস্টিস নেটওয়ার্কের কো-ফাউন্ডার আজহার উদ্দিন খান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সিলেট জেলার সংগঠক ফয়সল আহমেদ ও আব্দুর রহিম, মহানগর সংগঠক জহিরুল ইসলাম ও রেজাউল করিম, সিলেট বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ মহসিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) সমন্বয়কবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকরা জাতীয় নাগরিক কমিটির এই উদ্যোগকে গভীরভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এক শ্রমিক বলেন, “এভাবে আগে কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। জাতীয় নাগরিক কমিটি যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের কথা ভেবেছে, আমাদের জন্য কাজ করছে—এটাই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শুধু শীতবস্ত্র বিতরণ নয়, তাদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সমাজে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।”
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আল হোসেন।
জাতীয় নাগরিক কমিটির এই উদ্যোগ স্থানীয় চা শ্রমিকদের মাঝে আশার আলো ছড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
