“মাঘের শীতে বাঘে কাঁপে’ সেই হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে সিলেট-হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার এই তিনটি জেলার মিলনস্থল ওসমানীনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর তীরে জমে ওঠেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে ঘিরে ভিন্ন ধরণের এ মেলা ঘিরে ক্রেতা ও উৎসুক জনগণের আগ্রহের কমতি নেই।
আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে মেলায় প্রায় ৩৫ কেজির একটি বাঘাইড় মাছ উঠেছে। যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে আনুমানিক ১লক্ষ টাকা। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষে আয়োজিত মেলায় মাছ, আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদি মিলে কোটি টাকার উপরে বেচাকেনা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। যদিও মূল মেলাটি একদিন ও এক রাতের। কিন্তু আগে-পরে মিলে এখন তিনদিন ধরে মেলা চলে।
মাছের মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, বাউশ, কালি বাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি ইত্যাদি মাছ স্থান পেয়েছে। প্রায় ৬০ জন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন।
মেলার আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এই মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো সদর উপজেলার মনু নদীর মনুমুখ এলাকায়। এটি অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে আয়োজন করা হতো। গৃহস্থ পরিবারের লোকজন নতুন বিরইন চালের পিঠার সঙ্গে ভাজা মাছ দিয়ে নিজেরা খেতো এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের আপ্যায়ন করা হতো। প্রায় ২শ বছর আগে মেলাটি জায়গা স্থানান্তর হয়ে শেরপুর এলাকায় চলে আসে। কালের যাত্রায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি বাঙালির সর্বজনীন উৎসবে রুপ নেয়। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এই মেলাকে ঘিরে উৎসব আনন্দে মেতে ওঠে।
এছাড়া মেলা উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরাও দেশে এসে থাকেন। সৌখিন প্রবাসীরা মেলায় এসে বড় বড় বাঘাইড়, বোয়াল, আইড়, বাউশ ও দেশি বিলুপ্তপ্রায় মাছ কিনে থাকেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মেলায় আসবার জন্য বড় ব্যবসায়ীরা সপ্তাহখানেক আগ থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করতে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে আড়ত থেকে ছোট বড় অনেক জাতের মাছ নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েন।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের মাছের দাম হাঁকানো হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের মাছের দাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের মাছের দাম ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকাও হাঁকানো হচ্ছে।
