বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেশ ভালোই খেলা চলছে। একজন লন্ডন বসে হুকুম দেয় আর এখানে তার কিছু চেলা আছে আগুন দেয়। বাংলাদেশে এভাবে খেলা জনগণ মেনে নিবে না। তারা নির্বাচন করবে না, করবে না। কিন্তু আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, আগুন দিয়ে সরকারি সম্পত্তি জ্বালানো; এটা তো জনগণের সম্পত্তি। রেল লাইন তুলে ফেলে, এক্সিডেন্ট করে মানুষ হত্যা করা, পুড়িয়ে মারা এটা তো সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কাজ, জঙ্গিবাদী কাজ। আর সেই সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে।
বুধবার তিনি সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির তো এই একটাই কাজ যা ২০১৩ তে দেখেছি ১৪ তেও আমরা দেখেছি মানুষ পুড়িয়ে মারা। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? গতকালকে যে ঘটনাটা ঘটলো, তারা হরতাল দিয়েছে। এদেশের মানুষ তো সেটা মানেও নাই। কোনো সাড়াও দেয় নাই। তা;দের তো বুঝা উচিত এদেশের মানুষ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়। আমরা ভোটের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছি, আমাদের দলকেও। ঠিক আছে সবাই দাঁড়াবে, কাজ করবে, জনগণ যাকে বেঁচে নিবে সেই জয়ী হবে। সেখানে আমরা কি দেখলাম, রেলে আগুন দিলো, একটা মা সন্তানকে নিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেল। মা সন্তানকে কিন্তু বুকের মধ্যে চেপে রেখেছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। কি করে একটা মানুষ এটা করতে পারে। নারী-শিশু, পুলিশের ওপর হামলা, সাংবাদিকের ওপর হামলা, জনগণের ওপর হামলঅ। এটা কোন ধরনের রাজনীতি। জনগণের কাছে তাদের কর্মসূচি নিয়ে যাবে, জনগণ যদি তাদের কর্মসূচিতে সাড়া দেয় তখন আসবে। কিন্তু মানুষকে মেরে একটা ভীতির সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তাদের অভিজ্ঞতা নেই। তারা ১৩ তে পারে নি, ১৪ তেও পারে নি। তাহলে কেন আবার আগুন দিয়ে পোড়ানো হলো।
শেখ হাসিনা বলেন, ভোট জনগণের অধিকার। এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই ভোট জনগণ দিবে। সেই ভোট দিতে আসা মানুষকে বাঁধা দেওয়া, তাদের খুন করা এটা বাংলাদেশের কেউ মানবে না। আমি মনে করি এদেশের মানুষ তাদেরকে উৎখাত করবে। এটাই বাস্তবতা। আমরা যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। হঠাৎ করেই তারা একেকটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে। যারা এই অগ্নি সন্ত্রাসে জড়িত, মানুষকে হত্যা করেছে তাদের ক্ষমা নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবোই।
আওয়ামীলীগ সভানেত্রী আরও বলেন, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। মানুষকে ভোট দিতে দিবে না। মানুষ কিন্তু ভোটের পাগল, মানুষ নির্বাচনের পক্ষে। মানুষ তো হরতালে সাড়া দিচ্ছে না। মানুষ বরং ভোটের মিছিলে সাড়া দিচ্ছে। এর পরেও কেন আবার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। সেটাই আমার প্রশ্ন। এতে তাদের কি অর্জন হবে। তারা তো মানুষের দ্বারা আরও বিকৃত হচ্ছে। বিদেশে বসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে কোনোদিনই সফল হবে না। এরকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না। পারবেও না।
