সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিগত ২০০৪ সালে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় একজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যদ- দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের পিপি আবুল হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে মামলার আরেক আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমদ নিমুকে আদালত মৃত্যুদ- দিয়েছে। মৃত্যুদ-ে দ-িত নাঈম আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে। মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদ- করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে হাজির হন। দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক স্বপন কুমার সরকার আসামিদের নির্দোষ সাব্যস্ত করে বেকসুর খালাসের আদেশ দেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছিলেন এবং একই মাসে মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছিল।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। জনসভা চলাকালে আকস্মিক গ্রেনেড ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই হামলায় ঘটনাস্থলেই যুবলীগের এক নেতা নিহত হন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অন্তত ২৯ জন গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমান সরকারের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা সিলেট অঞ্চলের অন্যতম এই শীর্ষ রাজনৈতিক সহিংসতার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় ব্যাপক কৌতুহল ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অবশেষে সব আসামির খালাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছরের এই আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল।
