বিপিএলের দ্বাদশ আসরের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তার এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিসিবি। এর মধ্যে একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি চারজন অভিযোগের ব্যাপারে জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় পেয়েছেন।
বিসিবির বিবৃতিতে অনুযায়ী, আইসিসি অ্যান্টিকরাপশন কোড ফর পারটিপিশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কয়েকজন খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানানো হয়েছে, কথিত বেটিং-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, দুর্নীতিমূলক যোগাযোগ, কোডের ৪.৩ ধারার অধীন জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা এর তদন্তে অসহযোগিতা।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন চিটাগং রয়্যালসের লজিস্টিক ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহমালিক মো. তৌহিদুল হক, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার ও সিলেট টাইটানসের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী।
এ ছাড়া বিসিবি তাদের ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় সামিনুর রহমানকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে। সর্বশেষ বিপিএলে তিনি চিটাগং রয়্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিপিএলের ৯ম, ১০ম, ১১তম আসরসহ একাধিক আসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমের তদন্তের পর তাঁর ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ বিপিএলে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তটি করেছেন মূল বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল। তবে এর আগে একাদশ বিপিএলে ওঠা ফিক্সিংয়ের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি।
ফারুক আহমেদ সভাপতি থাকার সময় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত সেই তদন্ত কমিটিতে আরও ছিলেন আইনজীবী ড. খালেদ এইচ চৌধুরী ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম।
তাঁদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সেসব অভিযোগ নিয়েও অধিকতর তদন্ত করছেন অ্যালেক্স মার্শাল। তবে সেই তদন্ত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আজ বিপিএল নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে, তবে পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।
