মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:১২

কোম্পানীগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক রিপোর্ট
এপ্রিল ১৬, ২০২৪ ৭:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বাবুল ইসলাম বাবলু নামে এক ব্যবসায়ী হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার টুকেরবাজার হাইস্কুল মাঠে এই প্রতিবাদ ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মেম্বারের সভাপতিত্বে ও টুকেরগাঁও আদর্শ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বাবুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনার ৪ দিন মামলা না দিয়ে রহস্য উদঘাটনে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। থানা পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে বসে থাকলেই হবে না, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার না করা হলে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জকে অচল করে দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী বাবুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর চারদিন পর মামলা রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চলে তীব্র সমালোচনা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে বাবুল ইসলাম। পরদিন ভোর ৬টার দিকে উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকার রাস্তার পাশের একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বাবুল ইসলামের স্ত্রী আসমা খাতুন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলা রেকর্ড করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
অভিযোগে বাবুলের স্ত্রী উল্লেখ করেন ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ও দুই পা ভেঙ্গে বাবুল ইসলামকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর আলামত নষ্ট করার জন্য হত্যাকারীরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, আমার স্বামীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বুড়দেও গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে আক্কাছ আলী (৪৫) সর্বশেষ ফোন করিয়া আমার স্বামীকে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য বলে। তার ফোন পেয়ে আমার স্বামী তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল নিয়ে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে যান। পরদিন ভোরে লোকমুখে সংবাদ পাই যে, উপরোল্লিখিত ঘটনাস্থলে আমার স্বামী রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। পরবর্তীতে আমার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে থানায় সংবাদ দিলে থানা-পুলিশের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আমার স্বামীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেন। আমার স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকারীরা আমার স্বামীর লাশ উপরোল্লিখিত ঘটনাস্থলে খালের পানিতে ফেলে দেয়। উল্লেখিত আক্কাছ আলী অথবা অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা আমার স্বামীকে ফোন করিয়া নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

বাবুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন হত্যার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করছে।

এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, অভিযোগ সংশোধন করে দিয়েছেন তার পরিবার। আর আজ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।