এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলার আহবায়ক আকতার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে সংগঠনের জেলা শাখার সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করা হয়েছে যুগ্ম আহবায়ক সালমান খুরশেদ।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়- গত ২২ মার্চ জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) এর ইফতার মাহফিলে লিডিং ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্রের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়। সেই মামলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলা আহবায়ক আকতার হোসেনকে ৩নং আসামী করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতার হন। যার কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলার নির্বাহী কমিটি ও কনভেনর বডি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিলেট জেলা আহবায়ক আকতার হোসেনকে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার আগ পর্যন্ত সাংগঠনিক কাজ হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলা আহবায়ক হিসাবে পরিচয় বা সাংগঠনিক কার্যক্রম করা থেকে বিরত থাকবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলার নির্বাহী কমিটি ও কনভেনর বডি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিলেট জেলা ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে কাজ করবেন সালমান খুরশেদ (১নং যুগ্ম আহবায়ক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিলেট জেলা)।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আকতার হোসেন বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। সেন্ট্রাল থেকে এরকম কোনো নির্দেশনা নাই। একজন আহবায়ককে কোনোভাবে একজন সদস্য সচিব অব্যাহতি দিতে পারেন না। এটার কোনো নিয়ম নায়। এটা সংগঠনের বাইরে। সংগঠনের একজন অদক্ষ মানুষ হলে এরকম হয়। এটা হাস্যকর। এটা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করের। ২৭২ জনের কমিটি। ৪/৫ জন বাদে আর কেউই জানে না। আজ এ বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
এব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম জানান, তাকে অব্যাহতি আমি সদস্য সচিব দেই নি। এখানে লেখা আছে বার্তা প্রেরক সদস্য সচিব। এখানে নির্বাহী একটা বোর্ড আছে ৭ জনের। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন আকরাম হোসেন। তান লগে কথা হইছে। তিনি বলেছেন তোমাদের নির্বাহীর উপর সিদ্ধান্ত পড়ে। আমরা স্বচ্ছতার জন্য কনভেনর বডিকে নিয়ে আসছি। ৩৯ জনের মধ্যে ২৩ জন স্বাক্ষর দিয়েছেন তাকে অব্যাহতি জানিয়ে। বাকিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে মতামত দিয়েছেন। তিনি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে মারতে গেছেন, এটা আমরা দেখেছি। তানর উপরে মামলা রয়েছে। তিনি জামিনে বের হয়েছেন। তানর মামলা খালাস হয়নি। মামলা শেষ হলে তিনি পদে যোগদান করতে পারবেন। এখন তিনি প্রচার করাচ্ছেন যে, আমি নাকি তাকে অব্যাহতি দিয়েছি। আমিতো জাস্ট বার্তা প্রেরক।
এর আগে গত ২২ মার্চ জাতীয় নাগরিক পার্টির সিলেটের ইফতার মাহফিলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় তাকে ২৩ মার্চ ভোরে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ওইদিন বিকেলে তার জামিন হলে কারাগার থেকে ছাড়া পান আরিফ।
