-
#২ টি মামলায় গ্রেপ্তার-২১
#শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর
ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সিলেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতি হয়েছে ৫০ কোটিরও বেশি। এসময় শতাধিকেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ইতিমধ্যে থানায় ২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে আর গ্রেপ্তার হয়েছেন ২১ জন।
জানা যায়, গত সোমবার সিলেটে সর্বস্তরের জনগণ ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে সেখান থেকে বেলা ৩টার দিকে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান, পণ্য রাখা ও বিক্রির অভিযোগে সিলেট নগরের মিরবক্সটুলায় অবস্থিত কেএফসি রেস্টুরেন্ট হামলা ও ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তারা রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা বিভিন্ন কোমল পানীয় রাস্তায় ফেলে নষ্ট করেন। কেএফসির নিচ তলায় থাকা রয়াল মার্ক হোটেলেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে চৌহাট্টা এলাকায় আলপাইন রেস্টেুরেন্টেও ভাঙচুর করা হয়। একই সময় নগরের দরগাহ গেইট এলাকায় বাটা জুতার শোরুম ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আর জিন্দাবাজার এলাকায় বাটার দুটি শোরুম ভাঙচুর-লুটপাট করে একটি শোরুমের মালামাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্দরবাজার এলাকায় বাটার একটি শোরুম ভাঙচুর করা হয়। একই সময় নগরের আম্বারখানা পয়েন্টে ইউনিমার্ট শপিং সেন্টারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী এলে লুটপাট থেকে রক্ষা পায় ইউনিমার্ট। বন্দরবাজারের বনফুল ও পিউরিয়াতেও লুটপাট চালানো হয়। সুবিদ বাজার এলাকার বিভিন্ন ভূষিমালের দোকান ও রেস্টুরেন্টেও হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তারা জানিয়েছে শতাধিকেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
এঘটনায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাসদ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ দাবি জানিয়েছেন।
ভাঙচুর ও লুটপাট হওয়া হোটেল রয়েল মার্কের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান জানান, ফিলিস্তিনে ইসরাইলী বর্বরতার বিরুদ্ধে আমাদেরও অবস্থান। ইসরাইলী বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও সক্রিয় রয়েছেন। কিন্তু মিছিলের নামে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি অভিজাত হোটেলে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আমরা বিস্মিত ও ক্ষুদ্ধ। সোমবার দেখলাম সিলেটের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে হোটেলে কিভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, দিনভর সিলেট নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সিলেটবাসী হতবাক। এর সাথে জড়িতরা কোনভাবেই তৌহিদী জনতা হতে পারেনা। এরা দুর্বৃত্ত। এদেরকে কঠোর হস্থে দমন করতে হবে এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বিক্ষোভের নাম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, সোমবার মিছিল থেকে কতিপয় দুর্বৃত্ত দফায় দফায় আমাদের রয়েল মার্ক হোটেলে অবস্থিত রেষ্টুরেন্ট-কফি শপে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। হোটেলের রিসিপশনে থাকা কাউন্টার, ডেস্কটপ, ল্যাপটপসহ সকল আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এসময় হোটেলের ক্যাশে থাকা ১ লক্ষ ৮৪ হাজার নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। হোটেলের লিফট, জেনারেটর, সাব স্টেশন, নিচ থেকে ৬ তলা পর্যন্ত গ্লাস, লাইটিং ভাংচুর করা হয়েছে। হোটেলের থাকা ছোপড়া রেষ্টুরেন্টকে পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। হোটেলের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ক্রিমস কফি শপেও ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। পূণ্যভুমি সিলেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্বৃত্তপনায় আমরা উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল পরিদর্শন করেছেন। অবিলম্বে হোটেল রয়েল মার্কসহ নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুজিবুর রহমান মিন্টু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ইসরায়েলি পণ্য ও প্রতিষ্ঠান দাবী করে সিলেটে শতাধিকেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। অথচ যেগুলো দাবী করা হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান, সেগুলো ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ও না। এটি পরিকল্পিতও হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেই ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠাও এখন সম্ভব না। আনুমানিক ৫০ কোটিরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবী জানাচ্ছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা হয়।
এবিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, এপর্যন্ত হোটেল রয়েল মার্ক ও ডমিন’জ পিজ্জার ম্যানেজার বাদী হয়ে ২ টি মামলা কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেছেন। আমরা ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
