সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ঘটনায় দেলওয়ার হোসেন নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সিলেট-জকিগঞ্জ মিনিবাস শ্রমিক উপ কমিটির সদস্য ছিলেন।
এর আগে একই ঘটনায় আহত রিপন আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২ মে) মৃত্যুবরণ করেন। ফলে এ পর্যন্ত দুই শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটল।
ঘটনার পর বুধবার নিহত দেলওয়ার হোসেনের বাবা ছাবলু মিয়া দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শ্রমিক নেতা মইনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মামলাটির অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে নিহত রিপনের পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি মামলা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাস ও টিকিট কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক শ্রমিক আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
