সিলেটে সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে মঙ্গলবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের ঘরবাড়ি, সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের কাজলশাহ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ, আখালিয়া, সুবিদবাজার, চৌহাট্টা সিভিল সার্জন কার্যালয়, মেজরটিলা, ইসলামপুর, ভার্থখলা, শাহপরান ও দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোড এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি নামে ধীরগতিতে।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এদিন সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১৮৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া সিলেটের আকাশে মেঘ রয়েছে। যার কারণে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরের ভার্থখলা এলাকার বাসিন্দা মাসুম আহমদ বলেন, সারারাতের বৃষ্টিতে সকালে সারা রাস্তাঘাট ডুবে যায় পানিতে। এদিকে সকালের টানা মুষলধারে হওয়া বৃষ্টিতে পানি ঘরে ঢুকে যাওয়ার মতো উপক্রম। প্রতিবছরই আমাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সংশ্লিষ্টরা কোনো উদ্যো না নেওয়াতে এই অবস্থাটা আরও স্থায়ী হচ্ছে দিন দিন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জলাবদ্ধতা হবে। এটি থেকে উত্তরণ হওয়া কঠিন। তবুও আমরা কাজ করছি। আমরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা সর্বোচ্চটা করেও এর থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছি না। শহরের যেসব জায়গায় বেশি জলাবদ্ধতা হয়, সেসব এলাকায় আমরা পানি দ্রুত নামিয়ে দিতে ড্রেনের ছিদ্র বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগে যেসব ছিদ্রে নেট বসানো ছিল, সেগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি যাওয়ার জন্য আসলে পর্যাপ্ত স্পেস পাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি এই সমস্যা নিরসনে।
ছবি- নগরের শাহপরানের বাহুবল এলাকার।
