সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়ানোর নাম করে রাষ্ট্রবিরোধী সভা করায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৩১ জন শিক্ষার্থী সহ ৩৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ জুলাই) তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদী দিয়ে টেকেরঘাট পর্যটন এলাকায় যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়। আজ সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে জানিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আফিফ আনোয়ার (২৪), বখতিয়ার নাফিস, মো. সাইখ সাদিক, ইসমাইল ইবনে আজাদ, সাব্বি আহম্মেদ, তাজিমুর রাফি, মো. সাদ আদানান অপি, মো. শামীম আল রাজি, মো. আব্দুল্লাহ আল মুকিত, মো. জায়িম সরকার, হাইছাম বিস মাহবুব, মাহমুদুর হাসান, খালিদ আহাম্মদ, মো. ফাহাদুল ইসলাম, তানভীর আরাফাত ফাহিম, এটিএম আবরার মুহতাদী, মো. ফয়সাল হাবিব, আব্দুল বারি, আনোয়ারুল্লাহ সিদ্দিকী, মো. বাকি বিল্লাহ, মাহাদি হাসান, আলী আম্মার মোয়াজ, এম তানভীর হোসেন, মো. রাশেদ রায়হান, সাকিব শাহরিয়ার, ফায়েজ উস সোয়াইব, আব্দুর রাফি, আশরাফ আলী, মো. মাহমুদ হাসান, মো. এহসানুল হক, মাইন উদ্দিন, তানিমুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ মিয়া।
এদের মধ্যে ৩১ জনই বুয়েটের ছাত্র।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু সাইদ। তিনি বলেন, রোববার সকাল ৭টায় তাহিরপুর বাজারের নৌকাঘাট থেকে একটি নৌকায় করে এই ৩৪ শিক্ষার্থী টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান। হাওরে ঘোরার পর একই দিন দুপুরে পাটলাই নদী দিয়ে ট্যাকেরঘাট পর্যটন এলাকায় যাচ্ছিলো তারা। এ সময় নতুন বাজারের সামনে নৌকাটি আসলে দুটি স্পিডবোটে করে পুলিশ গিয়ে তাদের থামিয়ে আটক করে তাহিরপুর থানায় নিয়ে আসে। এসময় শিক্ষার্থীদের নৌকার দুই চালক আহাদুল মিয়া ও মুহাদ্দিস মিয়াকেও আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে তারা জানতে পারে- এসব শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছিলো। তাই তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাহিরপুর থানার এস.আই রাশেদুল কবির বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাইদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
