শিল্পকারখানা না থাকলেও সুনামগঞ্জ জেলায় গত কয়েক দিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছেন শহর ও গ্রামের মানুষ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার গ্রাহক, পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবামূলক কার্যক্রম।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে জেলার প্রায় অর্ধেক ফিডার বন্ধ রেখে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতায় শহর এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার এবং দিরাই জোনে ১৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক। সিলেটের ইকবালনগর গ্রিড থেকে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ শহরে দৈনিক ১৩ থেকে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬ থেকে সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। একইভাবে দিরাই জোনে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহকের জন্য দিনে ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট এবং রাতে ৬৫ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। এ কারণে ৬৫টি ফিডারের মধ্যে অন্তত ৩০টি ফিডার বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
দিরাই পৌর শহরের বাসিন্দা পাবেল হাসান বলেন, দিনে তিন ঘণ্টা পরপর এবং রাতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসে-যায়। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ।
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারের ব্যবসায়ী সুদীপ্ত রায় বলেন, বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা কাউছার আহমদ অভিযোগ করেন, সামান্য মেঘ করলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আসে না। এতে গরমে রাতে ঘুমানো এবং দিনে স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুন্ডু বলেন, কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং ছাড়া বিকল্প নেই।
এদিকে, পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত লোডশেডিং করা ছাড়া উপায় নেই।
