ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা সীমান্তে ছররা গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফ।
শনিবার বিকালে উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের পর লাশ দুটি ফেরত দেওয়া হয় বলে জানান সুলতানপুর-৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ধজনগর গ্রামের হেবযু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০) এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৫৫)।
এর আগে শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছোড়া ছররা গুলিতে তারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, রাতে সীমান্ত এলাকায় একদল লোক অবস্থান নিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে মুরসালিন ও নবীরসহ কয়েকজন আহত হন। বিএসএফ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ মুরসালিন ও নবীরকে উদ্ধার করে ভারতের একটি হাসপাতালে নিলে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান বলে জানায় বিজিবি।
বিজিবি জানায়, লাশ ফেরত চেয়ে দুই দেশের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়। বিকালে লাশ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এবং কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা।
ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিং ও বিশালগড় থানার একাধিক কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় সকালে বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ১৫ জন চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশে দেশটির প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের বাধার মুখে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুটি ছররা গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনায় পর বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানায় বিজিবি।
