সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও সংরক্ষিত এলাকা বাংকারে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন রোধে টাস্কফোর্সের লাগাতার অভিযানে আজসহ গত তিন দিনে মোট ২৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ১৮০টি নৌকা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, আজ বুধবার (২১ মে) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ পারভেজের নেতৃত্বে ধলাই নদীতে অভিযান চালানো হয়। এসময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের দায়ে পাঁচজনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রায় ৩০টি নৌকা ধ্বংস করে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ফজলু মিয়ার পুত্র আবেদ আলী (৩২) একই উপজেলার আব্দুর রশিদের জসিম উদ্দিন (২৬), মোহাম্মদ হরমুজ আলীর পুত্র তোফাজ্জল (৩০) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আব্দুর নুরের পুত্র সালিক (৩০), ইউসুফ আলীর পুত্র হিরণ মিয়া।
এর আগের দিন, মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন নাহারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ১৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় পাথর বোঝাই ইঞ্জিনচালিত ও বারকি ১২১টি নৌকা ধ্বংস করা হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- পিজুস কুমার দাস, রিপন মিয়া, মো. মুসা মিয়া, আরিফ মিয়া, মো. মোবারক হোসেন, হযরত আলী, মো. রাসেল মিয়া, মো. জসিম মিয়া, সামছুল হক, মো. শফিকুল ইসলাম, আলী হোসেন, রাজিব হোসেন, ফয়সল আহমদ ও দেলোয়ার হোসেন।
গত সোমবার (১৯ মে) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ পারভেজের নেতৃত্বে ৫ জনকে ১৮ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেদিনও ধ্বংস করা হয় প্রায় ৩০টি নৌকা এবং আটক করা হয় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, শহিদুল ইসলাম, দুলাল মিয়া, আলী আহমেদ, জুয়েল, এবং মনা মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছর ছয় মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, সম্প্রতি যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে আজও ৫ জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
