সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা তথা বৃহত্তর জৈন্তিয়ার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, সকল বালু-পাথর কোয়ারী খুলে দেয়া সহ বৈষম্যের শিকার ১৭ পরগনা খ্যাত বৃহত্তর জৈন্তিয়া বাসীর ১০ দফা ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে সর্বস্তরের নাগরিকদের উপস্থিতিতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত সভায় শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন- পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ গোলজার আহমদ। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মৌলভী আব্দুল খালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আহাদ, যুগ্ম আহবায়ক ডা. মোন্তাজিম আলী, যুগ্ম আহবায়ক ফয়েজ আহমদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব প্রভাষক মহি উদ্দিন জাকারিয়া, নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস শহিদ শুক্কুর মেম্বার, জৈন্তাপুর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আনোয়ারুল আম্বিয়া, জামায়াত নেতা হাফিজ শামসুজ্জামান, জমিয়ত নেতা মাওলানা মকবুল হোসেন, এবি পার্টির সিলেট জেলা কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আহমদ, পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সচিব কাজী আব্দুর রহমান আল মিসবাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিক্ষক নেতা মো: আলমগীর হোসেন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির খান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, আমাদেরকে আর কত বঞ্চনা আর বৈষম্য’র শিকার হতে হবে ? জৈন্তিয়া অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে গ্যাস লাইন সংযোগ সহ এখানকার মানুষের মৌলিক দাবী দাওয়া ‘বাস্তবায়নে সর্বস্তরের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আমাদের গ্যাস আমাদের ঘরে পৌঁছে দিন- এটি গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।
সভায় সকলের সম্মতিতে মোশাহিদ আলীকে আহবায়ক ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলামকে সমন্বয়কারী করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়।
দাবিগুলো হলো- বৃহত্তর জৈন্তার লাখ লাখ মানুষের প্রাণের দাবী অবিলম্বে বৃহত্তর জৈন্তার চার উপজেলার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ প্রদানের কার্য্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ কোয়ারীগুলো অবিলম্বে আইন অনুসারে খোলে দেওয়া, বৃহত্তর জৈন্তিয়ার সুরমা, সারী, পিয়াইন নদী সহ অপরাপর নদ- নদীগুলোর বিশাল পানির প্রবাহকে সংরক্ষণ ও সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলা, বন্যা ও প্লাবন থেকে রক্ষার জন্য নদী খনন সহ ব্যাপক ও সমন্নিত ডাইক নির্মাণ ও বেড়িবাধ প্রকল্প গ্রহণ, বৃহত্তর জৈন্তিয়াকে “পর্যটন এলাকা” ঘোষণা, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভা ঘোষণা, ঢাকা-সিলেট-তামাবিল ও (ছয়) লেন মহাসড়ক প্রকল্প জনস্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা, বিগত সরকারের স্থানীয় ও ঢাকার কতিপয় সংসদ সদস্য সহ সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তিবর্গ অবৈধ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রাইভেট সংস্থা/কোম্পানী নামে “জাফলং ভ্যালি বোডিং স্কুল” নাম দিয়ে একটি ব্যক্তিগত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান খুলে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত কয়েকশত বিঘা/একর সরকারী খাস ভূমি রাতারাতি অবৈধ ও যোগাযোগীমূলক বিশেষ পন্থায় লীজ গ্রহণের নামে জবর দখল করা জৈন্তিয়াবাসীর মূল্যবান সরকারী বিশাল খাস ভূমি বাতিল করে ‘জৈন্তিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া, বৃহত্তর জৈন্তিয়ার কেন্দ্রস্থলে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক সংলগ্ন সারীঘাট দরবস্ত অঞ্চলে কমপক্ষে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং বৃহত্তর জৈন্তিয়া থেকে আহরিত প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল,পাথর, বালু থেকে আয়ের ন্যূনতম ১০%-১৫% আয় বৃহত্তর জৈন্তিয়ার উপজেলাগুলোর অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করার দাবি।
