সিলেট নগরে অতিবৃষ্টিতে আবারো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নগরের বেশকিছু এলাকায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, নগরের অভিজাত উপশহর, মেজরটিলা, জালালাবাদ, সোবহানীঘাট, তেরোরতন, মাছিমপুরসহ শহরের নিম্নাঞ্চলের এলাকায় বৃষ্টির পানি জমেছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি। সিলেটে সকাল থেকে এখনপর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে।
সিলেটের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় (৬-৬) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪.৬ মিলিমিটার। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেটের আকাশে বজ্রমেঘের অবস্থান রয়েছে। যেটা কেটে যেতে সময় লাগবে।
এদিকে, চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় (৯-৯) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৪৯ মিলিমিটার। যার কারণে সিলেটের নদনদীর পানি বাড়তেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সুরমা নদীর কানাইঘাট ও সিলেট পয়েন্টে বুধবার সন্ধ্যায় ১১.৬০ মিটার ও ৯.৫৮ মিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় ১২.৩৭ মিটার ও ১০.১১ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর লুবা নদীর লুবা ছড়া, সারি নদীর সারিঘাট ও ডাউকি নদীর জাফলং পয়েন্ট দিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ১১.৯০, ১০.২০ ও ৯.২৯ মিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২.৮৫, ১১.৫১ ও ১০.১৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মেজরটিলা এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালের বৃষ্টিতে সারা মেজরটিলা বাজার ও আশপাশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ৯ টার দিকে বাজারে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। পরে যখন একটু জায়গা যাওয়ার পরে দেখলাম হাঁটু পানি হয়ে গেছে, পরে আর সামনে যাওয়ার সাহস পাই নি। এখন বৃষ্টি দিলেই জলাবদ্ধতা একটি নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টি হওয়া মানেই বাসা থেকে আর বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. রুহেল আহমদ জানান, সকালে বৃষ্টির পানি জমে বাজারে পানি হয়েছিল। এখন বৃষ্টি কমে যাওয়াতে ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে। এখানে কাজ চলতেছে। আশা করা যায় সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে।
