নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে পুনঃনির্বাচনের দাবী বানিয়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা। শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সুফিয়ান ও শাহিদুর রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. লবিবুর রহমান।
তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৮মে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনের নামে প্রহসন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাল ভোটের মহোৎসব, আমাদের ভোটার ও কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা, অ্যাজেন্টদের মারধোর এমনকি কর্মীদের বন্দী বা জিম্মি করে রাখার ঘটনার পাশাপাশা এমন কি ভোট গননায়ও কারচুপি করা হয়েছে। বস্তুত সেদিন এ উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তাসহ পুলিশ প্রশাসন একজন বিশেষ প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছিল এবং অবশ্য তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা বা নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছেন। নির্বাচনে আমরা তিনজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও প্রশাসন দোয়াত-কলমের প্রার্থীর পক্ষে একতরফাভাবে কাজ করেছে। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে এমনভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে যাতে তারা দোয়াত-কলমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমের বিজয় নিশ্চিত করতে পারেন। হয়েছেও তাই। গোলাপগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশার গলা টিপে তারা এলিম চৌধুরীর জয়ই নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দোয়াত-কলমের কর্মীরা ভোটারদের হয়রনি ও ভীতি প্রদর্শন করেছে। এমনকি পুলিশও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে নিজেরাই ঘোড়াব ও আনারসের সমর্থক ভোটারদের উপর হামলা চালিয়েছে। দোয়াত-কলমের প্রার্থী এলিমের গুরুবাহিনী ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে গেলে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তারা ছোরা চাকু দা নিয়ে হামলা চালিয়ে আনারসের ৩জন কর্মীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই কর্মীরা মারাত্মক আহত হয়। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আইওয়াশ করতে হামলাকারী এক সন্ত্রাসীকে আটক করে এবং পরে ঢাকাদক্ষিণ যাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়। অথচ মারাত্মক আহত আনারসের তিন কর্মী এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ।
তারা আরও বলেন, এদিন বিকেল ৩টার দিকে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ, শেখপুর, নিয়াগুল ও শাহ কেন্দ্রে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসাররা। এতে আনারস ও ঘোড়া প্রতিকের অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেন নি। এর বিপরীতে এলিম চৌধুরীর নিজের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্র, বিশেষ করে বরায়া, হিলালপুর মোল্লাগ্রামসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়েছে।
কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে এলিম চৌধুরী এই কেন্দ্রগুলোতে তার নিজের একান্ত অনুগত কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তারা জানান, বিকেল ৩টার দিকে কায়ন্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গেলে আনারস ও ঘোড়া প্রতিকের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী উজ্জ্বল ও জাবেদের উপর হামলা চালায় এলিম চৌধুরীর সন্ত্রাসী বাহিনী। এই কেন্দ্র এবং এর আশাপাশের কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দিতেই রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কায়স্তগ্রামে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অবরোধ করে রাখে তারা। তখন আমরা দুই প্রার্থী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে ফোন করে নিজেদের দূরবস্তার কথা জানালে তিনি ‘প্রার্থী মরে গেলেও তার কিছু করার নেই’ বলে জানিয়ে দেন। পরে গোলাপগঞ্জ থানার ওসিকে জানালে তিনি আমাদের আশ্বাস দিলেও কোনো ব্যবস্থাই নেন নি। তারা বরং ভাদেশ্বরের শেখপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে আনারস ও ঘোড়ার কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের উপর হামলা চালান।
তারা বলেন, আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান ইকবাল, ওসি ও এসআই লুৎফুরের কঠোর শাস্তি দাবি করছি। প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসাররাও এলিম চৌধুরীর পক্ষে নির্লজ্জভাবে কাজ করেছেন। এই নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করে আবারও পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাই।
