নতুন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি নতুন সরকারে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডা. সামন্ত লাল সেন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জন্য সুপরিচিত একজন চিকিৎসক। তিনি দেশের বার্ন ইনস্টিটিউটগুলোর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় এ চিকিৎসক বলেন, কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি আমি মন্ত্রী হব। এটা আমার কাম্যও ছিল না। কাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি ফোন পেলাম। আমাকে বললেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলছি। প্রথমে ভাবছিলাম কোনো রোগী নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। আমি কোনোদিন ভাবিনি যে আমাকে মন্ত্রিপরিষদে ডাকা হবে। এটা জানার পর আমি সত্যি ঘাবড়ে গেলাম। ফোন পাওয়ার পর আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। আমি মনে করলাম ভুয়া টেলিফোন হবে। পরে যখন টেলিভিশনে দেখলাম তখন নিশ্চিত হলাম।
ডা. সামন্ত লাল সেন আরও বলেন, মন্ত্রিত্ব নতুন জিনিস, একটা চ্যালেঞ্জ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখেছেন আমি সে আস্থা ধরে রাখতে চেষ্টা করব।
ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম বার্ন বিভাগ চালু হয়। সামন্ত লাল সেন সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি বাংলাদেশ প্লাস্টিক সার্জন সোসাইটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি তাকে ২০১৮ সালে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।
১৯৪৯ সালের ২৪ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সিলেটের হবিগঞ্জের নাগুরা গ্রামে অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন জন্মগ্রহণ করেন। ডা. সেন্ট ফিলিপস হাই স্কুল থেকে ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক সম্পন্ন করে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ‘ডিপ্লোমা ইন স্পেশালাইজড সার্জারি’ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জার্মানি ও ইংল্যান্ডে সার্জারিতে আরো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
