# বাড়ছে নদ-নদীর পানি
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সিলেটে নদ-নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে তৃতীয় ধাপে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রতিনিয়ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৩ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ৩১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এর আগের দু’দিন ১৮৬ ও ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে এই পানি বাংলাদেশে বিভিন্ন নদনদীর মাধ্যমে প্রবেশ করে সিলেটে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও আগামী ৩দিনে ৯৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, সিলেটে আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় সিলেটের পাহাড়ী এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সুরমা নদী কানাইঘাট পয়েন্ট ও কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে যথাক্রমে পানি বিপদসীমার ৮৫ ও ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে রোববার সন্ধ্যায় কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়৷
আর সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি রোববার সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার দুপুরে ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর লুবা নদীর লুবা ছড়া, সারি নদীর সারিঘাট, ডাউকি নদীর জাফলং, সারিগোয়াইনের গোয়াইনঘাট ও ধলাইর ইসলামপুর পয়েন্টে পানি রোববার সন্ধ্যায় যেখানে যথাক্রমে ১২.৮৭, ১০.৫২, ১০.১৯, ৯.৬০ ও ৯.৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়, সেখানে সোমবার দুপুরে ১৪.৪৩, ১২.৩৫, ১১.৬৯, ১০.৩৬ ও ১০.২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বাকি নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে তৃতীয় ধাপে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে বৃষ্টিপাত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী কিছুদিন ভারী বর্ষনের পূর্বাভাস রয়েছে, সেহেতু উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলাবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি। এছাড়া যে সকল ঘর বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকার সম্ভাবনা রয়েছে তাদেরকে সময় নষ্ট না করে এখনই নিরাপদ আশ্রয়ে তথা নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
