২ দফা দাবিতে সিলেটের সাদা পাথরে ধর্মঘট পালন করেছেন নৌকার মাঝিরা। বুধবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত তারা এই ধর্মঘট পালন করেন। তাদের ২ দফা দাবি হলো- প্রতি ট্রীপে নৌকা ভাড়া মাঝিদের ৪০০ টাকা করে দেওয়া ও দালালমুক্ত খেয়াঘাট।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটের ভোলাগঞ্জে অবস্থিত সাদা পাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে সিলেট থেকে পর্যটকেরা এখানে এসে ভীড় করেন। সাদা পাথরে যেতে হলে ভোলাগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে নৌকা করে সেখানে যেতে হয়। নৌকাপ্রতি সেখানে ৮০০ টাকা দিয়ে ৮ জন করে যেতে পারেন। এই ৮০০ টাকার মধ্যে ৩০০ টাকা নৌকার মাঝিরা পান আর বাকি ৫০০ টাকা উপজেলা প্রশাসন পায়। বিভিন্ন সময়ে খেয়াঘাট লিজ দেওয়া থাকলেও বর্তমানে খেয়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। এখন মাঝিদের নৌকা ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা করে দেওয়ার জন্য তারা বেশ কিছুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রেরণ করে আসছিলেন। কিন্তু এতেও তাদের দাবী পূরণ না হওয়ায় তারা বুধবার সকাল ৯ টা থেকেই ধর্মঘটে নামেন। এতে করে সাদা পাথরে যাওয়ার জন্য সেখানে যাওয়া প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পর্যটক ভোগান্তিতে পড়েন।
সাদা পাথরের নৌকার মাঝি মঈন উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে জানান, আমরা আমাদের ২ দফা দাবিতে এই মানববন্ধন করেছি। ইউএনও মহোদয়কে আমরা বারবার বিষয়টি জানিয়ে এবং স্মারকলিপি দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। শেষমেশ আমরা আজ ধর্মঘট পালন করতে বাধ্য হয়েছি। এখন আমাদেরকে ইউএনও মহোদয় বলছেন শর্তসাপেক্ষে আরো ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিবেন। কিন্তু আমরা শর্তসাপেক্ষে এই দাবী মানি না। তিনি যদি সরাসরি ৫০ টাকা করে বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমরা মেনে নিবো। নাহলে মানবো না। এই টাকায় আমাদের পেট চলে না। এমনিতেই ব্যবসায় মান্দা চলতেছে।
এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবিদা সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। কি সমাধান হয়েছে, এটা উনাদের কাছ থেকে জানেন। সমাধান বলতে উনারা উনাদের কাজে ফেরত গেছে। সাড়ে ৩০০ টাকা পরবর্তীতে রেজুলেশন হবে। তারপর কার্যকর হবে। এটা কালকে থেকেই যে তারা পাবে, এটা না। এটা তাদের কাছ থেকেই জানেন, তারা জেনেছে। বহিরাগত কিছু ছাত্ররা এসে এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে। মাঝিরা এখানে পুরোপুরি সম্পৃক্ত যে, তা না। বহিরাগতরাই মূলত এই পুরো ঘটনা ঘটিয়েছে। আপনি তথ্য নেন, তাহলে জানবেন।
